ঈদের পর পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গুদামের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান শুরু করা হবে। শ্যামপুরে কেমিক্যাল পল্লি গড়ে তোলা হয়েছে। যেসব ব্যবসায়ী পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গুদাম স্থানান্তর করবেন না, তাদের গুদামে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের লাইন বিচ্ছিন্ন করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) তাদের কার্যালয় মিলনায়তনে ‘পুরোনো ঢাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে যানজটের প্রভাব ও উত্তরণের উপায় চিহ্নিতকরণ’ শীর্ষক সভাটির আয়োজন করে।
মেয়র বলেন, পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকায় যেন কেমিক্যাল গুদাম না হয় এজন্য লাইসেন্স বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও বিভিন্ন জায়গা থেকে লাইসেন্স নিয়ে পুরান ঢাকায় গুদাম করা হয়। ঈদের পর আমরা আর শুনবো না।
তিনি বলেন, পুরান ঢাকা থেকে হকার উচ্ছেদে বড় বাধা বিভিন্ন সংস্থার লোকজন ও দোকানদাররা। সিটি করপোরেশন থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এরপর বিভিন্ন সংস্থার লোকজন ও ফুটপাত সংলগ্ন দোকানদারের সহযোগিতায় আবার হকাররা সে জায়গা দখল করে। সবার সহযোগিতা না পেলে সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে উচ্ছেদ সম্ভব নয়।
মেয়র বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে আটটি ফুটপাতকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকা থেকে হকারদের পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। মেয়র জানান, কামরাঙ্গীর চরে পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যবসাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি মতিঝিল ও চকবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। মেট্রোরেলের কাজ চলমান থাকার কারণে এতদিন মতিঝিলে হাত দেওয়া হয়নি। মতিঝিলকে পুনরুজ্জীবিত করতে শিগগির কাজ শুরু হবে।
ফজলে নূর তাপস আরও বলেন, যেখানে-সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে বাস কাউন্টার থাকা যানজটের অন্যতম কারণ। সায়েদাবাদকেন্দ্রিক সমস্ত বাসের কাউন্টার হবে টার্মিনালের ভেতরে। টার্মিনালের বাইরে কেউ কাউন্টার করতে চাইলে ঢাকার বাইরে চলে যেতে হবে, কাউন্টারের কারণে যানজট হতে দেওয়া যাবে না।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আশরাফ আহমেদ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ মুনিবুর রহমান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) পরিচালক নীলিমা আক্তার। অনুষ্ঠানে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীরা যানজটে সৃষ্ট নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
যানজটের কারণে পুরোনো ঢাকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ। বিদ্যমান অবস্থা উত্তরণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কার্যকর ব্যবহার, পার্কিং সুবিধানিশ্চিতকরণ, ফুটপাত অবৈধ দখলদার মুক্ত করা, ওয়ান-ওয়ের পাশাপাশি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুকরা, সুনিদিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্যপরিবহন নিশ্চিতকরণ এবং সর্বোপরি গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা একান্ত অপরিহার্য বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বার সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, দেশের জিডিপিতে পুরোনো ঢাকার অবদান প্রায় ২০ শতাংশ হলে, অপর্যাপ্ত অবকাঠমো, যানজট ও অপ্রতুল পরিসেবার জন্য এ এলাকার ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজধানীর ঢাকার যানজটের কারণে দেশের সামগ্রিক জিডিপি প্রায় ২.৯ শতাংশ হ্রাস পায় এবং প্রতিদিন ট্রাফিক জ্যামের কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়া কর্মঘন্টার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৪০ কোটি টাকা। সড়কের খোড়াখুড়ি, অবৈধ ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত গাড়ি পার্কিং, অপ্রতুল সড়ক অবকাঠামো ও অকার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে বিশেষ করে পুরোনো ঢাকায় সৃষ্ট সহনীয় যানজট পরিস্থিতি ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ হতে উত্তরণে স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুকরণ, নদীপথের ব্যবহার বাড়ানো এবং পুরোনো ঢাকার প্রধান সরু ও ব্যস্ত সড়কে একমুখী ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুকরণের প্রস্তাব করেন ডিসিসিআই সভাপতি।
সময়ের আলো/জেডআই