ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুপাশে সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল। এতে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ বোরো ফসলের মাঠ। এসব ধানক্ষেতে অধিকাংশই শীষ বেড়িয়েছে। আবার অনেক জমিতে শীষ বেরুচ্ছে। ধানের শীষ দেখে কৃষকও স্বপ্ন বুনছেন আর কদিন পরেই পাকা ধান ঘরে তুলবেন। কিন্তু নিউ আশা ব্রিকস নামক একটি ইটভাটার ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে ১৫ কৃষকের স্বপ্ন।
সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তীর গোড়াইল বিলের মাঝখানে নিউ আশা ব্রিকস। গত কয়েকদিনে ধমকা হাওয়ায় ওই ইটভাটার নিচু চিমনির ধোঁয়ায় পাশের বোরো ধানের প্রায় ১০০ বিঘার জমির ধান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ১৫ জন কৃষকের স্বপ্ন পুড়ে গেছে ।
বুধবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে ধরন্তীর গোড়াইল বিলে গিয়ে দেখা গেছে, নিউ আশা ব্রিকসের নিচু চিমনির ধোঁয়া ইটভাটার উত্তর দিকে প্রায় ১০০ বিঘা জমির শীষ যুক্ত ধান পুড়ে গেছে। গত কয়েক দিনের চিমনির ধোঁয়ায় এসব জমির ধান চিটা হয়ে গেছে। আবার অনেক জমির শীষ সাদা হয়ে গেছে। শুধু ধানই নয় বিলের প্রাকৃতিক ঘাসও জ্বলে গেছে।
এ সময় হিরণ মিয়া নামের এক কৃষক কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, মহাজনদের কাছ থাইকা লগ্নি টাকা আইন্যা জমি করছি। এ জমির ওপর সংসারের সারা বছরের খোড়াকিসহ সন্তানের লেখাপড়া, কাপড়-চোপড় ওষুধপত্রের খরচাদি নির্ভর করে। ব্রিক ফিল্ডের ধোঁয়ায় আমার কপাল পুড়ছে।
এদিকে খবর পেয়ে কালিকচ্ছ ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান ভূইয়া গতকাল (বুধবার) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ধোঁয়া থেকেই এমনটি হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। ধোঁয়ার ঝাঁঝালো গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অবস্থা।
গড়াইল বিল কমিটির সভাপতি বাচ্চু মেম্বার বলেন, আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন। আমি আগামীকাল (শুক্রবার) বিলে গিয়ে ইটভাটা মালিকের সাথে কথা বলব।
এ ব্যাপারে নিউ আশা ব্রিকসের মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, তার কাগজপত্র সব হালনাগাদ আছে। তিনি আরও বলেন, ৮/১০ ধরে ব্যবসা করছি অতীতে কখনো এমনটি হয়নি। যদি কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি অবশ্যই দেখব।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পরিচালক বিসল চক্রবর্তীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরো জানান, ওই ইটভাটার কাগজপত্র হাল নাগাদ আছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে শুধু নিউ আশা ব্রিকস নয় ওই হাওরে সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলায় ফসলি জমিতে ১০/১২টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার কারণে ফসলের ক্ষতি হলেও মালিকেরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভুক্তভোগী কৃষকেরা প্রতিবাদ করতে সাহস করে না।
সময়ের আলো/আরআই