খুলনায় পাটকলের আগুন নিভে গেলেও এখনও কোথাও কোথায় আগুন জ্বলছে। সকাল থেকেই অবশিষ্ট আগুন মালামালা সরাতে ব্যস্ত মিলের শ্রমিক ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এরই মধ্যে পুড়ে গেছে মিলের সব মালামাল। সাথে পুড়েছে মালিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকের স্বপ্ন। কবে নাগাত মিলটি চালু হবে কিংবা আদৌ চালু হবে কিনা সেই দুঃস্বপ্নে মিলের সাড়ে পাঁচশ শ্রমিক কর্মচারীর। মিলে যদি সঠিকভাবে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকতো তাহলে হয়তবা এতো বড় ক্ষতি হতো না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা। তবে আগুন নেভানোর সকল ব্যবস্থাই ছিলো বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। এছাড়া আগুনে তাদের ১০০ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়ে বলে জানান ব্যবস্থাপক।
খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা মোড়ে অবস্থিত সালাম জুট মিলস। আগুনে পুড়ে ভেঙ্গে পড়েছে মিলের অবকাঠামো। যে দিকেই চোখ যায় শুধু ধ্বংসাবশেষ। থরে থরে পড়ে আছে পুড়ে যাওয়া পাট পণ্য। লৌহজাত যন্ত্রপাতিগুলো দাঁড়িয়ে আধা পোড়া অবস্থায়। যার সব কিছুই আর ব্যবহার যোগ্য নয়। তবে গত রাতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও কোথাও কোথাও থেকে ধোয়া বের হচ্ছে। কোথাও আবার আগুনের কুণ্ডলী। যা নির্বাপণে দিনরাত কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। সাথে যোগ দিয়েছে মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা। কিন্তু পাহাড়সম দুশ্চিন্তা ভর করেছে শ্রমিক কর্মচারীদের মাঝে। এখনই হয়ত হারাতে হবে জীবিকার অবলম্বন। মিল পুনরায় চালু হওয়া না হওয়া নিয়ে ভাবনার অন্তঃ নেই তাদের।
মিলের শ্রমিক হাসিবুল হাসান বলেন, সামনে ঈদ কোথায় পরিবারের সকলকে নিয়ে উৎসব করবো, সেটি এবার হলো না। এখন ভাবছি কি করে খাবো। মিল কবে চালু হবে জানিনা। আদৌ এটি চালু হবে কিনা সেটাও জানা নেই। তাই ভাবছি ঈদের পর নতুন করে কাজ খুঁজবো।
কর্মচারী আমিরুল ইসলাম বলেন, আমার পরিবারের আমি একাই আয় করি। বাবা বৃদ্ধ আর মা অসুস্থ, চাকরি না থাকলে অভাবে পড়বো। কিভাবে সংসার চালাবো জানিনা। 
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রায় সাড়ে ৫০০ শ্রমিক-কর্মচারী এখানে কাজ করি। সবার প্রায় একই অবস্থা।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন বলেন, এতো বড় একটা মিলে যে ভাবে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকার কথা সেটি ছিলো না। এ বিষয়ে বার বার মিল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলেও কর্ণপাত করেনি তারা। যদি শুনতো তাহলে হয়তবা এতো বড় ক্ষতি হতো না। কিভাবে আগুনের সূত্রপাত সে বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, সেই কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বলা যাবে কিভাবে আগুন লেগেছে।
তবে মিলের ব্যবস্থাপক বশির আহমেদ বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন নেভানোর সব কিছুই তাদের ছিলো। বলেন আগুন লাগার সাথে সাথে তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতা এতোটাই বেশি ছিলো যে তা চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
তিনি আরও বলেন, মিলে ৭৫০ টন রপ্তানি যোগ্য সুতা ছিলো, ১৪২টি বিভিন্ন আকৃতির যন্ত্র, এছাড়া ১০০ টন ওয়াকিং প্রসেস পাট ও ৪২ হাজার মন কাঁচা পাট ছিলো। এরসাথে অবকাঠামোতো রয়েছে। সব মিলিয়ে ১২০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। তবে মিলটি চালুর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পজিটিভ চিন্তাভাবনা রয়েছে। কিন্তু সময়ের ব্যাপার।
এর আগে বুধবার (৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টায় আগুন লাগে মিলটিতে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ও নৌবাহিনীর ২টি ইউনিট ৫ ঘণ্টার অধিক সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সময়ের আলো/আরআই