দিনাজপুরে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবী ও মুক্তিপণ গ্রহণ করতে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ মারপিটের মামলায় জয় চন্দ্র রায় (২০) ও মাহফুল আলম হৃদয় (২৭) নামে দুই তরুণকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি ইজিবাইক ও মুক্তিপণের নগদ ৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও নকল সোনার বারকে আসল বলে বিশ্বাস তৈরি করে প্রতারণা মামলায় তোজাম্মেল (৫৩) ও হাসিনুর রহমান (৫২) নামে আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত জয় চন্দ্র রায় সদর উপজেলার শেখহাটি এলাকার বুধু রায়ের ছেলে আর মাহফুল আলম হৃদয় একই এলাকার নবীর হোসেনের ছেলে। অপরদিকে গ্রেফতারকৃত মো. তোজাম্মেল গাইবান্ধা সদর উপজেলার দক্ষিণ গিদারী (চরকের হাট) এলাকার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে ও হাসিনুর রহমান দিনাজপুর সদর উপজেলার কিসমত মাধবপুর এলাকার মৃত উমর আলীর ছেলে।
সোমবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জিন্নাহ আল মামুন এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য দিয়ে সময়ের আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সদর উপজেলার গঙ্গা প্রসাদ এলাকার লতিফুর রহমানের ছেলে আল আমিন (১৮) কে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি ও মুক্তিপণ গ্রহণ করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ মারপিটের অভিযোগে অপহৃতের দুলাভাই দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার আরজী দেবীপুর এলাকার মৃত আফতাব উদ্দীনের ছেলে মজনুর রহমান কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করেন। 
অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, গত শনিবার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে তার শালা আল আমিন অটোবাইক নিয়ে ভাড়ায় চালানোর উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে বাদীকে কল করে তার মুক্তির জন্য ১ লাখ টাকা দাবি করে। এতে বাদীর পরিবারের লোকজনের সাথে আলোচনা করে ভিকটিমের মুক্তির জন্য ৪০ হাজার পাঠিয়ে দেয় অপহরণকারীর কাছে। তবে দাবীকৃত টাকার অবশিষ্ট না পাঠালে অপহৃতকে মেরে ফেলার হুমকি দেন অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় এজাহারের প্রেক্ষিতে তাদের আজ (সোমবার) গ্রেফতার করা হয়।
অপরদিকে, কুড়িয়ে পাওয়া নকল সোনার বারকে আসল বলে বিশ্বাস তৈরি করে প্রতারণার অভিযোগে দিনাজপুর শহরের উত্তর বালুবাড়িস্থ মেদ্দা পাড়া এলাকার জহুরুল ইসলামের স্ত্রী রশিদা বেগম গত রোববার (৭ এপ্রিল) কোতোয়ালী থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার বিবরণে তিনি বলেন, গত ৮ মার্চ ২০২৪ তারিখে রশিদা বেগম তার মেয়ের বাড়ি যাওয়ার জন্য দুপুর একটার দিকে উত্তর বালুবাড়ি আগা খান এর মিলের সামনে প্রতারকদের অটোবাইকে চেপে রওনা দেন। চলন্ত অবস্থায় প্রতারকদের কাছ থেকে সরল বিশ্বাসে এক জোড়া স্বর্ণের দুল ও এক জোড়া হাতের বালা কিনে নেন। এরপর তার মেয়েকে বিষয়টি জানালে তা পরীক্ষা করে জানতে পারে স্বর্ণের বারটি নকল। এজাহারের প্রেক্ষিতে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত একটি সোনালী রংয়ের নকল বার ও একটি কাগজের চিরকুট জব্দ করে।
গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সময়ের আলো/আরআই