তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জলদস্যুদের সাথে আলোচনা করে মুক্তিপণ দিয়ে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ সোমালিয়া উপকুল থেকে ছাড়িয়ে আনা হয় বলে জানায় মালিক পক্ষ কেএসআরএম গ্রুপ।
রোববার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর বারিক বিল্ডিং মোড়ের কেএসআরএম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রতিষ্ঠানের ডিএমডি শাহরিয়ার জাহান রাহাত। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেএসআএমের ডিএমডি সরোয়ার জাহান, কেএসআরএম’র সিইও মেহেরুল করি, পরিচালক করিম উদ্দিন, মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম।
শাহরিয়ার জাহান রাহাত বলেন, জাহাজে ৬৫ জন জলদস্যু নেমে যাওয়ার পরই মুক্তি পায় এমভি আবদুল্লাহ। জাহাজটি ১৯ থেকে ২০ এপ্রিল দুবাই পৌঁছাবে। এরপর নাবিকদের দুইটি অপশন থাকছে। প্রথমত তারা ফ্লাইটেও চাইলে আসতে পারবে। দ্বিতীয় অপশনে ওই জাহাজে করেই দেশে ফিরতে পারবেন। নাবিকরা দুটির যে কোন একটি অপশন বেছে নিতে পারে।
তিনি বলেন, এমভি জাহান মণি নামে আমাদের একটি জাহাজ জলদস্যুর কবলে পড়েছিল। এরপর ১৪ বছর পর দুর্ভাগ্যবশত একই ঘটনা ঘটল। গত ১২ মার্চ জলদস্যুরা এমভি আবদুল্লাহকে জিম্মি করে সোমালিয়ার উপকুলে নিয়ে যায়। ৩১ দিন পর রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর রাত ৩টার পরে ফাইনালি জলদস্যুরা জাহাজটি ছেড়ে যায়। সাধারণত দস্যুরা মালিকপক্ষকে টার্গেট করে বেশি স্বার্থ হাসিল করতে চায়। তাই আমরা তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে আলোচনা শুরু করি। আলোচনার পর ভাল ফলাফল এসেছে। মুক্তিপণ পেয়ে জলদস্যুরা নাবিকদের ছেড়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের জাহাজ হাইরিস্ক এরিয়ার বাইরে ছিল। ২০০ নটিক্যাল মাইল রিস্কি। আমরা ৬০০ নাটিক্যাল মাইলে ছিলাম। তাই জাহাজের নিরাপত্তার জন্য আর্ম গার্ড নিইনি আমরা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি যুদ্ধজাহাজ ফোর্সফুলি জাহাজটি উদ্ধারে যেতে চেয়েছিল। আমাদের সরকার কুইক রেসপন্স করেছে। সাংবাদিকরা সহযোগিতা করেছেন। ১৯ থেকে ২০ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবে জাহাজটি আশাকরি। এরপর নাবিকদের দেশে ফিরিয়ে আনাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্মলনে কেএসআরএম’র সিইও মেহেরুল করিম বলেন, জাহান মণির সময় আমাদের জ্ঞানের অভাব ছিল। তখন উদ্ধারে সময় বেশি লেগেছিল। এবার জাহাজ দখলে নেওয়ার পর আমরা জাহাজের লোকেশন ট্রেক করতে থাকি। যোগাযোগ শুরুর পর প্রতিদিনই কথা হচ্ছিল। নাবিকরা কেমন আছে, কত তাড়াতাড়ি দস্যুরা জাহাজ ছেড়ে যাবে ইত্যাদি কথা হতো। দুই দিন আগে আমাদের দাবি ছিল, তাই প্রত্যেক নাবিকের ভিডিও নিয়েছি। মুক্তিপণের প্রতিটি কাজ আইনগতভাবে করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে করা হয়েছে৷ কত ডলার সে বিষয়টি আমরা নানা কারণে বলতে পারছি না। এ ক্ষেত্রে ইউএসএ, ইউকে, সোমালিয়া, কেনিয়ার নিয়ম মানতে হয়েছে।
রোববার (১৪ এপ্রিল) ভোর তিনটায় কথা হয় ক্যাপ্টেনের সঙ্গে। জলদস্যুরা ৬৫ জন ছিল। বোটে করে তারা চলে যায়। নাবিকদের অপশন আছে ফ্লাইটে আসা কিংবা জাহাজে আসা। জাহান মণি ১০০ দিন ছিল। নাবিকদের ভিসা সমস্যা ছিল। আবদুল্লাহহ জাহাজটি দুবাই থেকে চট্টগ্রাম নিয়ে আসব।
প্রসঙ্গত গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগর থেকে ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ জিম্মি করেছিল সোমালিয়ার জলদস্যুরা।
সময়ের আলো/এম