সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ দুবাইয়ের আল হামরিয়া বন্দর পর্যন্ত পৌঁছতে আরও অন্তত পাঁচ দিন লাগবে। এখনও অবস্থান করছে ভারত মহাসাগরে। মুক্ত হওয়ার পর বিরামহীন এগোচ্ছে গন্তব্য বন্দরের দিকে।
জাহাজটি সেই বন্দরে পৌঁছতে সমুদ্রপথে এখন দুটি সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একটি হচ্ছে হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতার কারণে তুলনামূলকভাবে সহজ পথ এডেন উপসাগর এড়িয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়টি হচ্ছে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি নিরাপদে অতিক্রম করা। যেখানে ইরানি নৌবাহিনী নতুন করে তৎপর হয়েছে। ইতিমধ্যে ইসরাইলি ধনকুবের মালিকানাধীন একটি জাহাজও জব্দ করেছে তারা। এদিকে জাহাজটির নিরাপত্তায় চারপাশে দেওয়া হয়েছে কাঁটাতারের ঘেরা।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংগঠনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী মঙ্গলবার রাতে সময়ের আলোকে বলেন, রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এমভি আবদুল্লাহ ভারত মহাসাগরেই ছিল। আরও কয়েক দিন সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে হবে। এরপর পৌঁছবে আরব সাগরের দিকে। জাহাজটি নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ করে এগোচ্ছে আরব সাগরের দিকে। দ্রুত দুবাই বন্দরে পৌঁছানোর জন্য সহজ সমুদ্রপথ ছিল এডেন উপসাগর দিয়ে চলতে পারলে। কিন্তু হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার কারণে বিশ্বের বহু দেশের জাহাজ এই সমুদ্রপথ এড়িয়ে চলছে। তাই এমভি আবদুল্লাহও এডেন উপসাগর এড়িয়ে ঘুরপথে আরব সাগর হয়ে যাবে দুবাই বন্দরের দিকে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরব সাগরে পৌঁছবে। সেই সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে হবে। এরপর জাহাজটি দুবাই বন্দরে পৌঁছবে। হরমুজ প্রণালিতেও এখন সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে ইরানি বাহিনী সম্প্রতি ইসরাইলি ধনকুবের মালিকানাধীন একটি জাহাজ জব্দ করার পর থেকে জাহাজ চলাচলে উদ্বেগ বেড়েছে। এসব বাধা অতিক্রম করে জাহাজটি আগামী ২১ এপ্রিল নাগাদ দুবাই বন্দরে পৌঁছতে পারবে বলে আমি আশা করছি।
এদিকে জাহাজটির নিরাপত্তার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাংলাদেশ সময় রোববার ভোররাত ৩টায় জাহাজটি মুক্তি পাওয়ার পর সোমালিয়া উপকূল এলাকা থেকে অনেক দূর এগিয়েছে। জাহাজটির বর্তমান অবস্থান ভারত মহাসাগরে। ওই এলাকাটি জাহাজটির জন্য এখনও ঝুঁকিপূর্ণ।
কেএসআরএমের কর্মকর্তারা জানান, নিয়ম অনুসরণ করে জাহাজে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। চারপাশে দেওয়া হয়েছে কাঁটাতার। উচ্চ চাপে পানি ছিটানোর ব্যবস্থাও সচল করা হয়েছে, যাতে ফের দস্যুদের দ্বারা আক্রান্ত হলে রক্ষা পাওয়া যায়। নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে জাহাজে নাবিকদের লুকানোর জায়গা ‘সিটাডেল’ প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই গোপন কক্ষে নাবিকরা অবস্থান নিতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী বলেন, জাহাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা পুরোনো নিয়ম। আন্তর্জাতিক নিয়মও বলা যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাধারণত জাহাজে কাঁটাতাঁরের ঘেরাসহ আরও নানা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। যেহেতু জাহাজটি একবার দস্যুদের নিয়ন্ত্রণে গেছে তাই ঝুঁকি এড়াতে জাহাজটিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
জাহাজটির মালিক কেএসআরএমের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম জানান, জাহাজে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নাবিকদের সঙ্গে আগের মতোই প্রতিদিন যোগাযোগ হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে নানা নির্দেশনা। আশা করছি জাহাজটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দুবাই বন্দরে পৌঁছে নোঙর করবে।
ভারত মহাসাগরে গত ১২ মার্চ সোমালিয়ার দস্যুরা এমভি আবদুল্লাহকে অপহরণ করে। এরপর থেকে ২৩ নাবিকসহ জাহাজটি এক মাস জিম্মি ছিল। রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর তিনটায় জাহাজটি জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পায়। এখন জাহাজটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুটি যুদ্ধজাহাজের পাহারায় নিরাপদে গন্তব্যের বন্দরে পৌঁছতে সমুদ্রপথ পাড়ি দিচ্ছে।