৩৩ বছর পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেয়েও ভালো নেই সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে মনগড়া, অগঠণতান্ত্রিক ভাবে কমিটির অনুমোদন করার প্রতিবাদে বিশাল শোডাউন করেছেন পদ বঞ্চিতরা। বিয়ানীবাজার উপজেলা, কলেজ ও পৌর শাখা কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে।
ছাত্রলীগ বিয়ানীবাজার উপজেলা, কলেজ ও পৌর শাখা ছাত্রলীগ মূলধারার উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শহরের ডাকবাংলো থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার ডাকবাংলো সামনে এসে প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে শেষ হয়। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রনি রেজা, তরিকুল ইসলাম, মাহবুব আহেমদ ও ফারহান মহী।
গত ১১ মার্চ ৩৩ বছর পর বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগের ৩টি ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ। তিন ধাপে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ স্বাক্ষরিত তিন ইউনিটের কমিটি অনুমোদন পায়। বিয়ানীবাজার উপজেলা, সরকারি কলেজ ও পৌরসভা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর পরই কমিটিতে স্থান পাওয়াদের অনুসারীরা আনন্দ মিছিল করে। তবে ছাত্রলীগে বিবদমান ৭টি গ্রুপের অধিকাংশ নেতাকর্মী কমিটিতে ত্যাগীদের অবমূল্যায়নসহ কমিটিতে স্থান না দেওয়ার অভিযোগ তুলেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের জুয়েল আহমদ শিপুকে সভাপতি ও জাহিদুল হক তাহমিদকে সাধারণ সম্পাদক করে ৮১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটিতে সভাপতি পদে কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক পদে রাসেল রহমান রুমি দায়িত্ব পান। কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ৭১ সদস্যবিশিষ্ট এবং বিয়ানীবাজার পৌরসভা ছাত্রলীগে আশরাফুল আলম সাকেলকে সভাপতি ও রেদওয়ান আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
১৯৯১ সালে আব্দুল বারি আহবায়ক ও দেলোয়ার হোসেনকে যুগ্ম আহবায়ক করে বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটি গঠনের পর আর পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। ২০০৩ সালে আবুল কাশেম পল্লবকে সভাপতি ও জাকির হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীলরা কমিটি ঘোষণা করেন। এর এক বছর পর পুনরায় আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ২০০৪ সালে জামাল হোসেনকে আহবায়ক এবং আবুল কাশেম পল্লব ও জাকির হোসেনকে যুগ্ম আহবায়ক করে গঠিত কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ লাভ করেনি।
সময়ের আলো/আরআই