অসময়ে বাঁধা কপির চাষ, ভালো দামে খুশি কৃষক

পবা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বৈশাখের তীব্র তাপদাহে যখন অতিষ্ঠ জনজীবন ঠিক তখনই রাজশাহীতে চাষ হচ্ছে শীতকালীন সবজি বাঁধা কপি। বাঁধা কপি মূলত শীতকালীন সবজি

2024-05-05T18:51:37+00:00
2024-05-05T18:51:37+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
অসময়ে বাঁধা কপির চাষ, ভালো দামে খুশি কৃষক
পবা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৫ মে, ২০২৪, ৬:৫১ পিএম 
অসময়ে বাঁধা কপির চাষ, ভালো দামে খুশি কৃষক
বৈশাখের তীব্র তাপদাহে যখন অতিষ্ঠ জনজীবন ঠিক তখনই রাজশাহীতে চাষ হচ্ছে শীতকালীন সবজি বাঁধা কপি। বাঁধা কপি মূলত শীতকালীন সবজি হলেও গত কয়েক বছর থেকে রাজশাহীতে ১২ মাস চাষ হচ্ছে এই সবজি। 

জেলার পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের ঘোলহারিয়া গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ তার ৪ বিঘা পেয়ারার জমিতে সাথি ফসল হিসেবে এই অসময়ের বাঁধা কপি চাষ করেছেন। কুইকার জাতের এই কপি চাষে প্রতি বিঘা জমিতে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয় এবং প্রতি বিঘা জমি থেকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার কপি বিক্রি করতে পারছেন বলে জানান তিনি। 

রোদের তীব্র তাপদাহ এবং বৃষ্টি না হওয়ায় কপির উৎপাদন কিছুটা কম হচ্ছে বলে জানান কৃষক আবুল কালাম আজাদ। বৃষ্টির অভাবে জমিতে সেচ দিতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ। তার উৎপাদিত কপি ঢাকা-সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে যাচ্ছে বলে জানিয়ে কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি বিগত ৩-৪ বছর থেকে অসময়ের এই কপি চাষ করে আসছি। বিগত বছরে আবহাওয়া ভালো থাকায় কপির ফলন ভালো হয়েছিল, প্রতি বিঘা থেকে এক লক্ষ টাকার বেশি কপি বিক্রি করেছি। কিন্তু এই বছর আবহাওয়া বেশি শুষ্ক থাকায় তাপপ্রবাহ এবং দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন কম হচ্ছে। তারপরেও আমার কপির জমি থেকে লস হচ্ছে না তার কারণ হলো জমিতে আমি কপি চাষের পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে পেয়ারার চাষও করছি। আমার এক বিঘা কপির জমিতে উৎপাদন খরচ হচ্ছে ৩০ হাজার টাকার মত কিন্তু এইবছর এক বিঘা জমি থেকে কপি বিক্রি করছি প্রায় ৭০ হাজার টাকার মত। চার বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে এই বছর আবহাওয়া ভালো না থাকায় খুব বেশি লাভবান না হলেও চলার মত কিছু থাকছে। 

এই জমিতে কপি কিনতে আসেন মোহনপুর উপজেলার শ্যামপুর এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল আলী। তার কাছে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখান থেকে ১০ টাকা করে প্রতি পিস কপি কিনি তার পরে ঢাকা এবং সিলেটে এগুলো কপি কিছু বাড়তি দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি। অসময়ের সবজি হওয়ায় বাজারে এই বাঁধা কপির চাহিদা রয়েছে। তাই এগুলো বিক্রি করতে তেমন একটা অসুবিধা হয় না। 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা বাঁধা কপিতে আছে ৪৯ ক্যালরি এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে যা একজন মানুষের দৈনিক চাহিদার (ডিভি) প্রায় ৩.৭ গুণ পরিমাণ (টেবিল)। এটি ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, ফোলেট এবং ম্যাঙ্গানিজের একটি সমৃদ্ধ উৎস (দৈনিক চাহিদার ২০% বা তার বেশি পরিমাণ) যোগান দেয়।

এই বিষয়ে পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসনিম বলেন, আমাদের পবা উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের আমরা বিভিন্ন পরামর্শ এবং সহযোগিতা দিয়ে থাকি। উপজেলায় ব্লক পর্যায়ে যে সকল কর্মকর্তারা মাঠে থাকেন তারা কৃষকদের বিভিন্ন সহযোগিতা দিচ্ছে। আমরা যে শুধুমাত্র ধান, গম, ভুট্টা চাষে পরামর্শ দেই বিষয়টি এরকম না। নতুন কোন ফসল কিংবা কৃষকদের জন্য সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আগে শুধুমাত্র শীতকালীন সবজি হিসেবেই কপি চাষ হতো। কিন্তু বর্তমানে বছরের বাকি সময়েও কপি চাষ হচ্ছে। যে সকল কৃষকরা এ বিষয়ে পারদর্শী শুধুমাত্র তারাই অসময়ে কপি চাষ করে। আমি সরেজমিনে সেই জমিতে আমার অফিস থেকে লোক পাঠাবো তারা গিয়ে জমি পরিদর্শন করে নমুনা নিয়ে আসবে এবং অসময়ে কপি চাষে যে ধরণের পরামর্শ দেওয়া লাগবে তা দেওয়া হবে। 

সময়ের আলো/আরআই



  বিষয়:   গ্রীষ্মে বাঁধা কপির চাষ  বাম্পার ফলন  পবা-রাজশাহী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: