নওগাঁর রানীনগরে ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ইউনি ব্লক দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। ইউনি ব্লক তৈরিতে ব্যবহৃত হয় পাথর, সিমেন্ট ও বালু। ইউনি ব্লক দিয়ে নির্মিত রাস্তা দেখতেও সুন্দর। চলতি বছরের মধ্যে গ্রামীণ সড়কে বিটুমিনাস কার্পেটিং ও ইটের বদলে শতভাগ ইউনি ব্লক ব্যবহার করতে চায় সরকার।
তারই অংশ হিসেবে রানীনগর উপজেলা সদরের রেলস্টেশন এলাকা থেকে রাজাপুর গ্রাম হয়ে আবাদপুকুর পর্যন্ত এবং দক্ষিণ রাজাপুর মোড় থেকে মিনাপাড়া পর্যন্ত দুই কিলোমিটার রাস্তা নির্মিত হচ্ছে ইউনি ব্লক দিয়ে। কিন্তু এ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইউনি ব্লক ব্যবহার করছে। অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারেও চলছে অনিয়ম। স্থানীয়রা বলছেন, ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হলে এ রাস্তা টিকবে না। সবমিলিয়ে তারা ভীষণ ক্ষুব্ধ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রানীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, সিডিউল অনুযায়ী যথাযথভাবে কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া আছে। তারপরও যদি কাজে কোনো অনিয়ম করে তা হলে কাজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আবদুস সালাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্মাণকাজে কোনোরকম অনিয়ম করা হচ্ছে না। সঠিকভাবেই কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সদরের রেলস্টেশন এলাকা থেকে রাজাপুর গ্রাম হয়ে রানীনগর-আবাদপুকুর সড়ক পর্যন্ত এবং দক্ষিণ রাজাপুর মোড় থেকে মিনাপাড়া পর্যন্ত দুই কিলোমিটার পাকা রাস্তার বেহাল দশার কারণে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন জনসাধারণ। সে দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে আধুনিক রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই দুই কিলোমিটার রাস্তা ইউনি ব্লক দিয়ে নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালের জুন মাসে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ওই টেন্ডারে মেসার্স জেএস এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজটি পায়। কাজের চুক্তি মূল্য ধরা হয় ১ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার ১৮৬ টাকা। ২০২৩ সালের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু এবং শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের শুরুর দিকে রাস্তাটির পাকা কার্পেটিং তুলে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এখনও চলছে সেই কাজ। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ইউনি ব্লক দিয়ে রাস্তা তৈরির কাজ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তার নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও কাজ দেখাশোনার জন্য উপজেলা এলজিইডি অফিসের কাউকে দেখা যায়নি। নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, মোহন, হামিদুলসহ অনেকেই বলেন, কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করছে। রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইউনি ব্লকগুলো নিম্নমানের। শুধু তাই নয়, রাস্তার কিছু কিছু জায়গায় ভাঙা ইউনি ব্লক দেওয়া হচ্ছে। রাস্তায় ইউনি ব্লক দেওয়ার পর রাস্তার দুই পাশে কিছু অংশ ফাঁকা রাখা হচ্ছে। সেখানে সামান্য পরিমাণ সিমেন্ট ও অনেক বেশি বালু দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। সেই ঢালাই এতটাই দুর্বল যে, হাতের আঙুল দিয়ে আঁচড় দিলেই উঠে যাচ্ছে। আমরা এবং স্থানীয়রা কাজের এসব অনিয়মের বিষয়ে বারবার ঠিকাদারের লোকজনকে বললেও তারা কোনো কর্ণপাত করছেন না। তারা তাদের খেয়াল-খুশিমতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে উল্টো কাজ বন্ধ রেখে চলে যাওয়ার ভয় দেখাচ্ছেন ঠিকাদারের লোকজন। যেভাবে অনিয়ম করে রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছে তাতে ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হলে রাস্তা বেশি দিন টিকবে হবে না। দ্রুত সঠিকভাবে নির্মাণকাজ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।
সময়ের আলো/আরএস/