জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত এমভি আবদুল্লাহ আগামী সোমবার (১৩ মে) বিকেলে ভিড়ছে কুতুবদিয়ার কাছে গভীর সাগরে। সেখান থেকে ১৫ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙরে ভিড়বে। এ সময় দু’দফায় চলবে জাহাজটিতে বহনকারী চুনা পাথর খালাস। খালাসের শেষ পর্যায়ে জাহাজটির ড্রাফট (নিচের অংশ থেকে উপরের লেভেল পর্যন্ত অংশ) কমলে বন্দর জেটিতে ভেড়ানো হবে।
জাহাজটির মালিক কেএসআরএম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুল করিম শনিবার (১১ মে) সময়ের আলোকে বলেন, জাহাজটি দুবাই মিনা সাকার বন্দর ত্যাগ করার পর এখন বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছে গেছে। আগামী ১৩ মে বিকেলে ভিড়তে পারে কুতুবদিয়ার কাছে গভীর সাগরে।
কেএসআরএমের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, জাহাজটি বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে গেছে। আগামী ১৩ মে বিকেলে কুতুবদিয়ার কাছে গভীর সাগরে ভিড়তে পারে। জাহাজটির ড্রাফট বেশি। ১৫ মে পৌঁছবে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে। তাই কুতুবদিয়া এবং চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে চুনা পাথর খালাস বেশি হবে। এরপর জাহাজটি জেটিতে ভিড়তে পারে।
এর আগে জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত এমভি আবদুল্লাহ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা খালাস করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে। এরপর জাহাজটি ৬ ঘণ্টা দূরত্বের দুবাইয়ের আরেক বন্দর মিনা সাকারে পৌঁছে। সেখানে মোট ৫৬ হাজার মেট্রিক টন চুনা পাথর বোঝাই করা হয়। গত ২৯ এপ্রিল জাহাজটি মিনা সাকার বন্দর ত্যাগ করে। গত ৯ মে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে। এরপর বিরামহীন চলছে কুতুবুদিয়ার কাছে গভীর সাগরের উদ্দেশে।
আফ্রিকার মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ দুপুরে এমভি আবদুল্লাহ জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জাহাজটিসহ ২৩ নাবিক এক মাস সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে ছিল। ভারি অস্ত্রধারী জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তির জন্য নানা চেষ্টা চালান মালিক পক্ষ। নাবিকদের পরিবারে শুরু হয় আহাজারি। পরে মুক্তিপণ দিয়ে জাহাজটি মুক্ত করা হয় জলদস্যুদের কাছ থেকে।
১৪ বছর আগে কেএসআরএম গ্রুপের আরেক জাহাজ এমভি জাহান মনি সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল। এই জাহাজ জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত করতে তিন মাস সময় লেগেছিল। তবে এমভি আবদুল্লাহ সে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। মাত্র এক মাসের মধ্যে জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয়। স্বস্তি ফিরে জাহাজ মালিক ও নাবিকদের মধ্যে।
উল্লেখ্য, এমভি আবদুল্লাহর আগের নাম ছিল ‘গোল্ডেন হক’। পরে মালিকানা পরিবর্তনের পর এটির নতুন নাম হয় এমভি আবদুল্লাহ। ২০১৬ সালে তৈরি করা জাহাজটির কাঠামো বেশ মজবুত বলে জানিয়েছেন শিপিং সেক্টরের সংশ্লিষ্টরা। এটির দৈর্ঘ্য ১৮৯ দশমিক ৯৩ মিটার এবং প্রস্থ ৩২ দশমিক ২৬ মিটার।
সময়ের আলো/আরআই