নির্মাণাধীন বাড়িতে এলাকা ভিত্তিক চাঁদাবাজি বন্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ নতুন এক কৌশল অবলম্বন করেছে। চাঁদাবাজদের মূল টার্গেট নির্মাণাধীন ঘর-বাড়িতে টানিয়ে দেয়া হচ্ছে পুলিশের সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড। বরিশাল মেট্রো পুলিশের অন্তর্ভুক্ত চারটি থানায় রোববার (১৯ মে) থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তারা নগরীর বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনের সামনে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানো ও মালিকদের অবহিত করেন।
পুলিশ এবং ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, এলাকাভিত্তিক একটি চক্র অনেকটা হঠাৎ করেই ইট-বালু-রড সিমেন্টের ব্যবসার সাথে কমিশনে জড়িত হয়েছে। এরা বিভিন্ন নির্মাণাধীন বাড়িতে গিয়ে তাদের কাছ থেকে এসব সামগ্রী কিনতে অনেকটা বাধ্য করে এবং ভয়ভীতি দেখায়। এদের কাছ থেকে তা না কিনলে চাঁদা দাবি করে বসে। এমন অনেক অভিযোগ পাবার পর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ নির্মাণাধীন সব বাড়িতে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এতে লেখা আছে, বাড়িওয়ালা নিজ পছন্দমত সুবিধাজনক জায়গা থেকে ইট-বালু-রডসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় করবেন, কেউ ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন প্রকার নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় ও বিক্রয়ের চেষ্টা করলে অথবা চাঁদা দাবি করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যেকোনো চাঁদাবাজি সংক্রান্ত কোন অভিযোগ থাকলে বরিশাল মেট্রোপলিটন দেয়া নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার চারটি থানায় ৫২৬টি নির্মাণাধীন ভবনে এ সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানানো হচ্ছে। পুলিশের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বরিশাল নগরীর নির্মাণাধীন বাড়ির মালিকরা। এতে আগামীতে যারা বাড়ি তৈরি করতে চান তাদের জন্য ভালো হবে বলে জানিয়েছে তারা।
বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিচুল হক জানিয়েছে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনা মোতাবেক বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে তারা সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টানিয়ে দিচ্ছেন। পুলিশের এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বরিশাল নগরীর ফকির বাড়ি রোডে ভবন নির্মাণ করা বাড়ির মালিক অ্যাডভোকেট লিলা চক্রবর্তী বলেন, কেউ যাতে চাঁদাবাজি করতে না পারে সে লক্ষ্যে পুলিশ যে উদ্যোগে নিয়েছে তা সত্যি প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, এতে সাধারণ মালিকরা উপকৃত হবে।
সময়ের আলো/আরআই