এএসআই আলতাফের ঘুষের টাকা চাওয়ার অডিও ভাইরাল

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা আসমানখালি পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই আলতাফ হোসেনের ঘুষ চাওয়ার অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পুলিশ সদস্যর ঘুষ

2024-05-19T21:20:28+00:00
2024-05-19T21:20:28+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
এএসআই আলতাফের ঘুষের টাকা চাওয়ার অডিও ভাইরাল
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৯ মে, ২০২৪, ৯:২০ পিএম 
এএসআই আলতাফের ঘুষের টাকা চাওয়ার অডিও ভাইরাল
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা আসমানখালি পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই আলতাফ হোসেনের ঘুষ চাওয়ার অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পুলিশ সদস্যর ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সত্যতা পেয়েছেন জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নাজিম উদ্দিন আল আজাদ। 

সোমবার এ বিষয়ে পুলিশ সুপার এমআর ফয়জুর রহমানের কাছে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে জানান এএসপি নাজিম উদ্দিন আল আজাদ। তারপর  অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এএসআই আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কাছে গত ১৩ মে একটি লিখিত অভিযোগ দেন আলমডাঙ্গা উপজেলার শালিকা গ্রামের আফরোজা খাতুন নামের এক নারী। অভিযোগটি তদন্ত করা হয়।

আফরোজা খাতুন বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে আমার স্বামী আতিয়ার হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতে পারেন না। তিন সন্তানের মানুষ করতেই আমাকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। কখনো দর্জির কাজ ও পাড়া-মহল্লার বাড়ির কাঁথা সেলাই করে সংসার চালায়। কয়েক মাস ধরে স্থানীয় একটি বেসরকারি এনজিওতে রান্নার কাজ করছি। রান্নার কাজ করার কারণে আমার দেবর আক্তার আলী ও মেজো ভাসুর হাশেম আলী স্বামীর কাছে বাজে মন্তব্য করেন এবং ভুল বোঝাতে থাকেন। স্বামীকে বলে, আফরোজার জন্য আমাদের মানসম্মান আর থাকছেনা। সে অনৈতিক কাজ করে বেড়ায়। তাদের কথা মত আমার স্বামী বাজে মন্তব্য করতে থাকেন। এ ঘটনার জেরে গত ৯ মে দেবর ও মেজো ভাসুর মারপিট করার জন্য বাড়িতে আসে। প্রাণভয়ে আমিসহ দুই নাবালক সন্তান আরেফিন রহমান (১৭) ও আল মেরাজকে (১২) নিয়ে ঘরের দরজা লাগিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। ঘরে প্রবেশ করতে না পেরে চলে যায়।

তিনি বলেন, ১০ মে আমার বড় ছেলে আরেফিন বাড়িতে এসে তার বাবার সাথে বিষয়টি নিয়ে বলছিল। আমিসহ আমার অপর দুই সন্তান উপস্থিত সেখানে ছিলাম। এ সময় আমার দেবর ও মেজো ভাসুর লোহার রড, লোহার পাইপ নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন। বেধড়ক মারপিট করেন। আহত অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মেজো ছেলেকে ভর্তি ও বড় ছেলেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া হয়। এদিন আমি স্বামী, দেবর ও ভাসুরের নামে আসমানখালী ক্যাম্পে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। ঘটনাটি ক্যাম্পের পুলিশ দুই পক্ষকে ডেকে সমাধান করে দেয়। সন্তানসহ আমি বাড়িতে আসতে চাইলে তারা বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি।

তিনি আরও জানান,  ১৩ মে দুপুরের দিকে আসানখালী ক্যাম্পের দায়িত্বরত এএসআই আলতাফ হোসেন বাড়িতে এসে আমাকে পায়নি। না পেয়ে স্বাজনদের কাছে অশালীন ভাষায় কথাবার্তা বলেন। আর নগদ  টাকা নিয়ে আসমানখালী ক্যাম্পে দেখা করার জন্য বলে। আমার পক্ষে ঘুষের টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে বিষয়টি লিখিতভাবে পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি।

এ ঘটনার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অডিও ক্লিপটিতে এএসআই আলতাফ হোসেন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ কয়েকজনের কণ্ঠ শোনা যায়। এএসআই আলতাফ হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘এই মানুষই ভালো করে, আবার এই মানুষই খারাপ করে। আমি যেভাবে বলব সেভাবে হবে।’ এমন কথা বলার পর ৫০ হাজার টাকা দাবি করতে শোনা যায় এএসআই আলতাফ হোসেনকে। সবাইকে ম্যানেজ করতে হবে তাই টাকা দিতে হবে। এ নিয়ে দর-কষাকষি হতে থাকে।

এএসআই আলতাফ হোসেনের কাছে ঘুষ দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তদন্ত করলে ঘটনা জানা যাবে। ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নাজিম উদ্দিন আল আজাদ বলেন, পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে আমি ঘটনাটি তদন্ত করছি। ভিকটিমের সাথে কথা বলে ঘুষ চাওয়ার বিষয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব। প্রতিবেদন জমার পর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিডিআর তোলা হবে ও অডিও ক্লিপটি ফরেনসিক করার জন্য পাঠানো হবে।

সময়ের আলো/জিকে


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: