চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে এনএসআই এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে প্রতারক চক্রের মূলহোতা মমতাজ বেগমসহ ২ জনকে আটক করেছে র্যাব-৭। গত বুধবার (২২ মে) রাতে সীতাকুণ্ডের প্রেমতলা কলেজ রোড এলাকা থেকে আটক করা হলেও শুক্রবার (২৪ মে) দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানায় র্যাব।
আটককৃতরা হলেন- মমতাজ বেগম (৩৪) এবং তার স্বামী মো. মুজিবুর রহমান। দু’জনের বাড়ি উপজেলার কাজীমুদ্দিন মিস্ত্রিবাড়িতে।
র্যাব জানায়, প্রতারক মমতাজ বেগম ও মুজিবুর রহমানের হাতে প্রতারণার শিকার হন চাকরি প্রত্যাশী এসএসসি পাশ মঞ্জুর আলম। গত ২০২১ সালে তার ভাগনির বিয়েতে মমতাজ বেগম এর সাথে মঞ্জুর আলমের পরিচয় হয়। পরিচয়ে তিনি জানতে পারেন মমতাজ বেগম ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন, এনএসআই (যা আসলে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা) এর উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। মমতাজ বেগম মঞ্জুর আলমকে এনএসআই এর ফিল্ড অফিসার পদে চাকরি লাভের প্রলোভন দেখায়। প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে চাকরি প্রত্যাশী মঞ্জুর আলমকে মমতাজ বেগম ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে এনএসআই এর ফিল্ড অফিসার পদে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দেন। বিষয়টি মঞ্জুর আলম অপর চাকরি প্রত্যাশী তার বোন জামাই, মামা এবং বন্ধুকে জানালে তারা সকলে চাকরির জন্য মমতাজ বেগমের বাড়িতে যায়। মমতাজ বেগমের স্বামী মুজিবুর রহমান তাদের সবাইকে চাকরি দিতে পারবে বলে আশ্বাস দেয়।
র্যাব আরও জানায়, ২০২১ সালের ২২ নভেম্বর তারিখে মঞ্জুর আলম ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তার মামা একরাম হোসেন ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তার বন্ধু নয়ন ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং তার বোন জামাই ১২ লাখ টাকাসহ মোট ৩৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা মমতাজ বেগমকে প্রদান করে। উক্ত টাকার সিকিউরিটি হিসেবে স্ট্যাম্পে প্রতারকরা লিখিত অঙ্গীকার নামা প্রদান করে। সিকিউরিটি হিসাবে বিভিন্ন ব্যাংকের ৩৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার ৫টি চেক প্রদান করে। দীর্ঘ ২ বছর ৬ মাস পর এনএসআই এর সার্কুলার হলেও মমতাজ বেগম তাদেরকে চাকরি দিতে ব্যর্থ হয়। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারে যে মমতাজ বেগম এনএসআই এর উপ-পরিচালক পদে কখনোই চাকরি করেনি। সে সরকারি কর্মকর্তার মিথ্যা পরিচয় দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ৩৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করে। পরে টাকা ফেরত চাইলে মমতাজ বেগম ও তার স্বামী তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনার পর চাকরি প্রত্যাশীরা র্যাব-৭ চট্টগ্রাম বরাবর একটি লিখিত আবেদন দাখিল করেন। পরে র্যাব তদন্ত করে দু’জনকে আটক করে।
তাদের স্বীকারোক্তি মতে, শোবার ঘরের খাটের নিচে বিশেষ কৌশলে রক্ষিত ৯৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। প্রতারণার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ডকুমেন্টও জব্দ করা হয়। দুজনকেই সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আরআই