কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত, বন্ধ বিমান চলাচল

কক্সবাজার প্রতিনিধি

সারাদেশ

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় রিমালে পরিণত হয়েছে। এর কারণে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সরানো হচ্ছে উপকূলের

2024-05-26T17:05:24+00:00
2024-05-26T17:05:24+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত, বন্ধ বিমান চলাচল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৬ মে, ২০২৪, ৫:০৫ পিএম 
কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত, বন্ধ বিমান চলাচল
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় রিমালে পরিণত হয়েছে। এর কারণে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সরানো হচ্ছে উপকূলের পাঁচ লাখ মানুষকে। এছাড়া রোববার (২৬ মে) কক্সবাজার রুটে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ওই রুটে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করে দেশের ৪টি এয়ারলাইন্স। সকাল ৭টার পর থেকে ফ্লাইটগুলো রাত ৯টা পর্যন্ত কক্সবাজার রুটে চলাচল করে। কিন্তু আজ রিমালের কারণে সব ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। 

জানা যায়, রিমালের প্রভাবে শনিবার (২৫ মে) রাত ১১টা থেকে আজ (রোববার) সকালে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার বেশির ভাগ নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পর্যটন শহরসহ রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, উখিয়া, টেকনাফ ও ঈদগাঁওতে হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি ও দমকা বাতাস প্রবল বেগে চলছে। জোয়ারের পানির প্রভাবে শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া, গোদার পাড়া, কলাতলী, নুরপাড়াসহ নিম্ব এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেই সাথে স্থানীয় বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত তিন-চার ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। ৯ নম্বর বিপদ সংকেত ঘোষণার পর থেকে উপকূলের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকতার কামাল জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমাল যদি সন্ধ্যার দিকে আঘাত হানে তাহলে শ্রমজীবী মানুষগুলোর ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেশি। কারণ তখন সমুদ্রে জোয়ার থাকবে। জলোচ্ছ্বাস ও ঝোড়ো হাওয়া একসঙ্গে আঘাত হানলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়। তিনি সেখান থেকে মানুষকে নিরাপদে নেয়ার জন্য কাজ করছেন বলে জানান।

এদিকে রিমালের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় সাগরের বিশাল ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে সোনাদিয়া, মাতারবাড়ী, ধলঘাটা, সেন্টমার্টিন, পেকুয়া, কুতুবদিয়া এলাকায়। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় অধিবাসীদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য স্ব স্ব পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান।

তিনি আরও বলেন, জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই সমুদ্র সৈকতে না নামতে নিষেধ করার পাশাপাশি জনগণের জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি রোধে জেলায় ইতোমধ্যে ২৬৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এছাড়াও প্রয়োজনে নিকটবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। উপকূলবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত সকল জনগণকে অবিলম্বে আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। যেকোনো প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউপি সচিব ও  উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। 

অন্যদিকে, মহেশখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার কুতুবজোম, মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দল প্রচার-প্রচারণা ও লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় রিমাল আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর দিকে এগিয়ে ঘনীভূত হতে পারে।

সময়ের আলো/আরআই
 


  বিষয়:   ঘূর্ণিঝড় রিমাল  আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত  উপকূলীয় এলাকা  বিমান চলাচল বন্ধ  কক্সবাজার 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: