চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে বগুড়ার কাহালু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসা সেবা। রোগী দেখে ওষুধ লিখছেন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। সকাল থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করলেও চিকিৎসক না পেয়ে একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের লেখা নাম মাত্র ঔষধ নিয়ে অভিযোগের তীর ছুঁড়ে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা। হাসপাতালে নেই কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। রোগীর প্রয়োজনীয় ঔষধ হাসপাতাল ডিসপেনসারিতে থাকলেও চিকিৎসকরা তা না লিখে ঔষধ নেই বলে রোগীদের জানিয়ে দেন। এতে ঐ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রোববার (২৬ মে) কাহালু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, রোগী দেখার জন্য জরুরি বিভাগে একজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও এ সময় চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। অথচ পাশেই একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে আরও দেখা গেছে, ঐ হাসপাতালের ২৭, ২৮,২৯, ৩০ ও ৩১ নং কক্ষে একজন মেডিকেল চিকিৎসক চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ঐসব কক্ষে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়ে চিকিৎসা দিতে দেখা যায়।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিল রতন দেব বেশ কিছু দিন হলে রাজশাহী ও ঢাকাতে ট্রেনিং এ অবস্থান করছেন বলে জানান অফিস সহকারী প্রধান আজিজুল হক। তিনি জানান, গত মার্চ মাসে এক সঙ্গে ৮ জন চিকিৎসক বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। চিকিৎসকের ২৯টি পদ থাকলেও বর্তমানে কনসালটেন্ট চিকিৎসক রয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন ৩ জন।
এছাড়া চিকিৎসকরা সকাল ৯ টায় হাসপাতালে উপস্থিত হওয়ার নিয়ম থাকলেও চিকিৎসকরা সেটি মানছেন না। টিকিট নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে রোগীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর মিলে চিকিৎসক। এছাড়া জরুরি বিভাগে কোন রোগী এলে তাকে ভালো করে চিকিৎসা ও পরামর্শ না দিয়েই বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.নীল রতন দেব এর সাথে মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সময়ের আলো/আরআই