সংকেত কমলেও ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (২৭ মে) সকাল থেকে টানা ভারী বর্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার একর লবণের মাঠ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে বিদ্যুৎহীন হয়ে উপকূলীয় এলাকাসহ বিভিন্ন উপজেলা। আজও বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ মে) সকালে বিপদ সংকেত ৯ থেকে ৩-এ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বিপদ সংকেত কমলেও কক্সবাজারের মানুষের বিপদ কমেনি। সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে জেলার বেশিরভাগ এলাকা এখন পানির নিচে রয়েছে। এতে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম।
কক্সবাজার শহরের গোলদিঘি, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, বড় বাজার, টেকপাড়া, কালুর দোকান, তারাবনিয়ারছড়া, নুর পাড়া, সমিতি পাড়া, নাজিরারটেক, ফদনার ডেইল, কুতুবদিয়া পাড়া ও হোটেল-মোটেল জোনসহ বেশিরভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে, রোববার (২৬ মে) আশ্রয় নেয়া মানুষেরা বাড়ি ঘরে ফিরে গেছে। উপকূলের অনেক ঘর বাড়ির চাল উড়ে গেছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, কক্সবাজার উপকূল থেকে ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ কেটে গেছে। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রিমালের সর্বোচ্চ বাতাসের গতি রেকর্ড করা হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘণ্টায় ১১১ কিলোমিটার। 
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীকি চাকমা বলেন, মহেশখালীতে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধ মেরামত করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। পানিবন্দিদের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সেন্টমার্টিনে বেড়েছে বাতাসের গতি। যারা আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই সকালে ঘরে ফিরেছে।
টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ বলেন, রিমালের প্রভাবে লবণের মাঠে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে বাতাসে গাছ পালা ভেঙ্গে গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে এখন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, এখন পর্যন্ত কক্সবাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ সকালে ঘরে ফিরে গেছে। জেলা প্রশাসন থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রাখা হয়েছে। তাছাড়া পর্যটকদের সমুদ্র সৈকতে না নামতে সেখানে বিচকর্মীদের পাশাপাশি টুরিস্টও কাজ করছে।
ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো হবে।
সময়ের আলো/আরআই