ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে করে সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা ও সারী নদীর পানি ৩টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আকস্মিক বন্যার পানিতে সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক তলিয়ে যাওয়ার কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে গত দুদিন ধরে সিলেটে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বুধবার (২৯ মে) পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১৪৬.১ মিলিমিটার ও আগের দিন মঙ্গলবার ২৪৯.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে আবহাওয়া অফিস। অতিবৃষ্টির ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা ও সারী নদীর পানি ৩টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের কারণে সারিঘাট-গোয়াইনঘাট সড়কের গোয়াইনঘাট-রাধানগর-জাফলং সড়কের শিমুলতলা পয়েন্ট প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার হাওরাঞ্চলের বাড়িঘরের মানুষ এখন পানিবন্দি দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া উপজেলার রুস্তমপুর, লেংগুড়া, ডৌবাড়ি, নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন, পূর্ব ও পশ্চিম আলীরগাঁও, পশ্চিম জাফলং ও মধ্য জাফলংয়ে প্লাবনের পরিমাণ বেশি হয়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে মোট ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও প্লাবন-প্রবণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে জনগণকে দ্রুত অবস্থান নিতে মাইকিং করা হচ্ছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, সিলেটের প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। বুধবার (২৯ মে) পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১৪৬.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আরআই