বরিশালে ৩৫ চালের আড়ত পানিতে তলিয়ে কোটি টাকার ক্ষতি

বরিশাল ব্যুরো

সারাদেশ

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে টানা বর্ষণে বরিশাল নগরীর সকল সড়কই ছিলো পানিবন্দি এতে করে চরম ভোগান্তিতে পরেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে নগরীর

2024-05-31T23:49:15+00:00
2024-05-31T23:49:15+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বরিশালে ৩৫ চালের আড়ত পানিতে তলিয়ে কোটি টাকার ক্ষতি
ঘূর্ণিঝড় রিমাল
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ মে, ২০২৪, ১১:৪৯ পিএম 
বরিশালে ৩৫ চালের আড়ত পানিতে তলিয়ে কোটি টাকার ক্ষতি
ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে টানা বর্ষণে বরিশাল নগরীর সকল সড়কই ছিলো পানিবন্দি এতে করে চরম ভোগান্তিতে পরেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে নগরীর ফড়িয়া পট্টি (চাউলা পট্টি) এলাকার অন্তত ৩৫টি আড়তের কয়েকশত টন চাল ভিজে গেছে। 

যার মধ্যে মিনিকেট, পাইজাম, স্বর্ণা, বুলেট, আঠাশ, চিনিগুড়াসহ বিভিন্ন প্রকারের চাল রয়েছে। ভিজে যাওয়া এসব চাল মানুষের খাওয়ার মত নয় বলছে ব্যবসায়িরা পাশাপাশি বড় লোকশান হবে বলেও মনে করছেন তারা। ভোক্তারা বলছে এ অযুহাতে বাড়তে পারে চালের দাম। আর ব্যবসায়িদের সংগঠন বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এর নেতারা বলছে সরকার সু-দৃষ্টি দিলে কিছুটা কম লোকশান হবে ব্যবসায়িদের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় বরিশাল নগরী। এরই মধ্যে নগরীর ফড়িয়া পট্টি (চাউলা পট্টি) এলাকায় পানি ছিলো হাঁটুর উপরে। এসব এলাকায় বিগত কয়েক বছরের এমন পানি দেখেনি ব্যবসায়িরা। অতিরিক্ত পানি ওঠার কারণে এ এলাকার ৩৫টির ও বেশি চালের আড়তে পানি উঠে যায় যার ফলে আড়তে থাকা চালের বস্তাগুলো ভিজে গেছে পানিতে যেহেতু সড়কে জমে থাকা ময়লা পানি তাই এসমস্ত চাল মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয় বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাই ভিজে যাওয়া চাল গাড়িতে করে দুরে বাহিরে নিয়ে শুকিয়ে কম দামে পোলট্টি ও মাছের খাবার হিসাবে বিক্রি করে কিছুটা ক্ষতি পোষানোর চেষ্টা করছে ব্যবসায়ীরা। এখন দুই একদিনের মধ্যে মাছের খাবার অথবা পোলট্টি মুরগীর খাবার হিসেবে চালগুলো কেউ না নিলে চার-পাঁচদিন পর তা নদী বা পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।

ফড়িয়া পট্টি (চাউলা পট্টি) এলাকার শ্রী গোপাল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী শিবু সাহা বলেন, এবারের ঝড়ে বরিশালে এতো পানি হয়েছে যে মাছের ঘের, পুকুর, খামার সবকিছু তলিয়ে গেছে। ফলে মাছগুলো সেখানে থেকে বের হয়ে গেছে, আর মৎস্য চাষিরাও এ চাল নিবে বলে মনে হয় না। 

তিনি আরো বলেন, পানি নেমে যাওয়ার পর যে যার মতো করে বিভিন্ন জায়গায় চালগুলো শুকানোর চেষ্টা করছেন বটে, তবে তাতে ২০ শতাংশ চালও উদ্ধার হয় কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আবার চালের সাথে সাথে আটা, চিনি, ডাল ময়দাসহ অনেক ব্যবসায়ীর মুদি-মনোহরীর মালামালও পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এসবের লোকসান কোন আড়তদার কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। কারণ সব মিলিয়ে ৩ শত টনের মতো চাল ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। একসাথে চালের এ ক্ষতিতে আমরা ব্যবসায়িরা সবাই বিপাকে পরে গেছি। অনেক ব্যবাসায়ীরা ব্যাংক থেকে লোন এনে কিংবা ধার দেনা করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এই ক্ষতিতে তারা অনেকেই পুঁজিই হারিয়ে ফেলবেন বলে মনে করেন এ ব্যবসায়ি। যদিও এ ব্যবসায়ী ক্ষোভ নিয়ে জানান, চালের দাম এক টাকা বাড়লেই মিডিয়া ও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধ অবস্থান নেয় কিন্তু এখন বিপদের
সময় তাদের খোঁজ নিতেও কেউ আসেনি।

অপরদিকে সাধারণ ভোক্তারা মনে করছেন নগরীর ফড়িয়া পট্টি (চাউলা পট্টি) এলাকার সব দোকান যখন পানিতে ডুবে গেছে এতে অনেক চাল নষ্ট হয়ে গেছে এবং অনেক ব্যবসায়ির পুঁজিই শেষ হয়ে গেছে এসব লোকশান
এড়াতে আবার চালের দাম যেন বাড়িয়ে না দেয় প্রশাসনকে সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেন সাধারণ ভোক্তারা।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি আলহাজ সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, চাল ব্যবসায়ীদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণে কম সুদে লোন দেয়াড় বিকল্প দেখছেন না। এজন্য সরকারে সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি। ভেজা চাল শুকিয়ে ব্যবসায়ীরা পোলট্রি ফিডের কারখানায় দেয়ার চেষ্টা করবেন, আর এতে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা না গেলেও পরিমাণটা কমাতে পারবেন বলে মনে করছেন তারা।

সময়ের আলো/জিকে


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: