রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় জোরপূর্বক ফসলি জমিতে পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় তিনটি পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারগুলো এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এরই মধ্যে পুকুরখননকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এস্কেভেটর মেশিনসহ একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৪ জুন) ভোরে উপজেলার শলুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্তর নেতৃত্বে বেশ কিছু লোক জমির মালিক লুৎফা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তার স্বামী আবু কাউসার শামসুজ্জামানকে খোঁজ করেন। কিন্তু এসময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তার আগে থেকেই তিনি বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন। তার ছেলে হাসান আল বান্নাও বাড়ি ছাড়া। তাদেরকে বাড়িতে না পেয়ে ছাত্রলীগ নেতা ও তার লোকজন লুৎফা বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘পুকুর খননে বাধা দিলে বা কোথাও অভিযোগ করলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।’ হুমকিদাতারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে সেখান থেকে চলে যান।
চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে দেওয়া পৃথক লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বামনদিঘী মৌজার ১২৩৩, ১২৩৫ ও ১২৩৬ দাগের মোট চার কাঠা জমির মালিক তিনজন। তারা হলেন- লূৎফা বেগম, ইনতাজ ফকির ও আজল বক্তার। জোরপূর্বক ও ভয় দেখিয়ে তাদের জমিতে পুকুর খননের চেষ্টা করেন বামনদিঘী গ্রামের সিরাজ ফকিরের তিন ছেলে মাসেম, হাসিবুল ও জিয়াউর রহমান।
অভিযোগের পর ইউএনও’র নির্দেশে চারঘাট থানা পুলিশের একটি দল গতকাল (সোমবার) রাতে অভিযান চালায়। পরে শলুয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বামনদিঘী মৌজার ১২৩৩, ১২৩৫ ও ১২৩৬ দাগের পাশের ফসলি জমিতে পুকুর খননকালে এস্কেভেটর মেশিনসহ একজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার শলুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্তর নেতৃত্বে বেশ কিছু লোক জমির মালিক লুৎফা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তার স্বামী আবু কাউসার শামসুজ্জামানকে খোঁজ করেন। কিন্তু এসময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তার আগে থেকেই তিনি বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, তাদের তিনজনের চার কাঠা জমিসহ এবং পাশের আরেকজনের দুই কাঠা জমিতে পুকুর খনন করতে চান প্রভাবশালীরা। তবে তাদের জমিতে পুকুর খননে ব্যর্থ হলেও প্রভাবশালীরা পাশের আরেকজনের জমিতে পুকুর খনন শুরু করেন। এই পুকুর খননের ফলে তাদের জমিও যেকোনো সময় ধ্বসে পুকুরে পরিণত হওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শলুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্ত জানান, হুমকি দেওয়ার ঘটনার সাথে আমার কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা নেই। এছাড়া লুৎফা বেগমের বাড়িতে আমি যাইনি। মাসেম, হাসিবুল, সোহাগরা গিয়েছিল। আর আমি শুধু এস্কেভেটর বা ভেকু মেশিনের ব্যবসা করি। এসব ঝামেলার মধ্যে আমি নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সাইদা খানম জানান, ফসলি জমিতে কেউ পুকুর খনন করতে পারবে না। যে বা যারাই পুকুর খনন করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান জানান, এরই মধ্যে এস্কেভেটর মেশিনসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। হুমকির বিষয়টিও তারা অবগত হয়েছেন। ইউএনও’র নির্দেশে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সময়ের আলো/আরআই