‘ইচ্ছেমতো’ খাজনা আদায়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

আবদুল মালেক, রানীনগর (নওগাঁ)

সারাদেশ

নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় পশুরহাটগুলোতে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে খাজনা আদায়কারীরা সরকার

2024-06-08T03:26:39+00:00
2024-06-08T03:26:39+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
‘ইচ্ছেমতো’ খাজনা আদায়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা
আবদুল মালেক, রানীনগর (নওগাঁ)
প্রকাশ: শনিবার, ৮ জুন, ২০২৪, ৩:২৬ এএম 
‘ইচ্ছেমতো’ খাজনা আদায়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা
নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় পশুরহাটগুলোতে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে খাজনা আদায়কারীরা সরকার নির্ধারিত রেটের চেয়ে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ অনিয়ম দেখার যেন কেউ নেই! 

কোনো এক রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকায় রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশেই হাটের ইজারাদার এবং টোল আদায়কারীরা তাদের ইচ্ছামতো খাজনা আদায় করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বৃহত্তম পশুরহাট আবাদপুকুর ও ত্রিমোহনী হাট। এ বছর আবাদপুকুর হাটটি উপজেলা প্রশাসনের আওতায় খাস আদায় করা হচ্ছে। আর ত্রিমোহনী হাটটি টেন্ডারের মাধ্যমে হিটলার নামে এক ইজারাদার ইজারা নিয়েছেন। সপ্তাহে রবি ও বুধবার দুদিন আবাদপুকুরে হাট বসে। আর সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার দুদিন বসে ত্রিমোহনী হাট।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রানীনগর উপজেলা ও আশপাশের উপজেলাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আবাদপুকুর ও ত্রিমোহনী হাটে গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়া বেচাকেনার জন্য আসেন হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গরু-মহিষ থেকে ৫০০ টাকা ও ছাগল-ভেড়া থেকে ২০০ টাকা খাজনা আদায় করা যাবে। কিন্তু আবাদপুকুর ও ত্রিমোহনী হাটের চিত্র একেবারেই উল্টো। টোল আদায়কারীরা গরু-মহিষের জন্য ৬০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত খাজনা নিচ্ছেন। আর ছাগল-ভেড়া থেকে ৩০০-৩৫০ টাকা পর্যন্ত খাজনা আদায় করছেন। আবার খাজনার টাকা নিলেও রসিদে লেখা হচ্ছে না টাকার পরিমাণ। এতে করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা।

এ বিষয়ে রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাবাসসুম বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবাদপুকুর হাটের খাজনা আদায়কারীর মধ্যে একজন হেলু মণ্ডল সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাটে অতিরিক্ত কোনো খাজনা আদায় করা হচ্ছে না। সরকারি রেটেই খাজনা আদায় করা হচ্ছে। এদিকে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যে নেওয়ার জন্য ত্রিমোহনী হাটের ইজারাদার হিটলারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আবাদপুকুর হাট থেকে গরু কিনেছেন ঘাটাগন দীঘিরপাড়ের এমদাদুল হক। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি হাট থেকে ৮২ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি। সেই গরুর জন্য লেখনি বাবদ ১০০ টাকা ও খাজনা বাবদ ৬০০ টাকা আমার কাছ থেকে নিয়েছে টোল আদায়কারীরা। কিন্তু ৭০০ টাকা নিলেও রসিদে টাকার পরিমাণ লিখে দেয়নি। ছাগল ক্রেতা মো. বছির আকন্দ বলেন, কুরবানির জন্য আবাদপুকুর হাট থেকে একটি ছাগল কিনেছি। ওই ছাগলের খাজনা বাবদ আমার কাছ থেকে ৩০০ টাকা নিয়েছে।
ত্রিমোহনী হাটের অবস্থাও একই। এ হাট থেকে গরু কিনেছেন একরামুল হোসেন।

তিনি বলেন, ত্রিমোহনী পশুরহাট থেকে একটি লাল ষাঁড় কয়েকজন মিলে দেড় লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন। গরুটির খাজনা বাবদ আমাদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ হাটে ছাগল ক্রেতার কাছ থেকেও সরকারি নির্ধারিত রেটের চেয়ে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন ক্রেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রেতা জানান, উপজেলা প্রশাসন হাটের এসব বিষয়ে সবকিছু জানার পরেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয় না। দ্রুত ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ হাটে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিলে ক্রেতা-বিক্রেতারা ইজারাদার ও টোল আদায়কারীদের কবল থেকে রক্ষা পাবে।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: