প্রস্তাবিত বাজেটকে গতানুগতিক ও ঋণনির্ভর ঘাটতি বাজেট এবং ধনিক শ্রেণির দুর্নীতি ও লুটপাটের দায় মেহনতি ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপাবে বলে মনে করে বাম দলগুলো। তারা বলছে, এই বাজেটে আর্থিক খাতের সংকট নিরসনে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। বেকার সমস্যার সমাধান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি রোধেও কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
এ বাজেট প্রত্যাখ্যান করে ‘গণমুখী’ বাজেটের দাবিতে শনিবার (৮ জুন) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। দুপুর ১২টার দিকে জেলা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বামজোটের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিবি রোডে ১নং রেলগেটে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
বাম গণতান্ত্রিক জোট জেলা সমন্বয়ক ও বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ গাইবান্ধা জেলা সম্পাদক রেবতি বর্মণ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করা হয়েছে। এমনিতেই সরকার ঋণের ভারে জর্জরিত। ঋণের সুদ পরিশোধের জন্যই বাজেটে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট বাজেটের সাত ভাগের এক ভাগ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
টাকার অবমূল্যায়ন, মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি বিবেচনায় নিলে বাজেটে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতেও বরাদ্দ বাস্তবে বাড়েনি বলে উল্লেখ করে বাম জোট নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজেটে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি রোধে কোনো কার্যকর দিকনির্দেশনা নেই। যেখানে আজিজ, বেনজীর, আনার-কাণ্ডে সরকারের দুর্নীতির ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে, সেখানে এবারও কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রেখে দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করার ব্যবস্থা হচ্ছে।
তারা মনে করেন, ব্যাংকগুলো থেকে সরকার ঋণ করায় এবং খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে ভুগে দেউলিয়া হওয়ার পথে। আর্থিক খাতের সংকট নিরসনে বাজেটে কোনও দিকনির্দেশনা নাই। বেকার সমস্যার সমাধান ও কর্মসংস্থানেরও কোনও দিকনির্দেশনা বাজেটে নাই। তাছাড়া মূল্যস্ফীতি যেখানে প্রায় ১০ শতাংশ সেখানে বর্তমান প্রবৃদ্ধি যে ঋণাত্মক তা আড়াল করে আগামীতে প্রবৃদ্ধি ৬.৭৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৬.৫ শতাংশ অর্থাৎ বাস্তবে প্রবৃদ্ধি ০.২৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। তাও কীভাবে অর্জিত হবে তার কোনও দিক নির্দেশনা নাই।
বাজেটে শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিশ্চয়তার জন্য রেশনিং এর জন্য কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি। বাজেটে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি রোধে কোনও কার্যকর দিক নির্দেশনা নাই বলেও উল্লেখ করেন তারা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন- বাসদ (মার্কসবাদী) গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক আহসানুল হাবিব সাঈদ, বাসদ জেলা সদস্য সচিব সুকুমার মোদক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জেলা সহকারী সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মুরাদ জামান রব্বানী, সদস্য আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা কমিটির সদস্য নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী প্রমুখ।
সময়ের আলো/এএ/