স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতাধীন গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নে সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাঘের বাজার গিয়াসউদ্দিন মোড় থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত পুরোনো বাদশাহী সড়ক নামে পরিচিত এই সড়কে চলমান নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট, খোয়া, বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। কাজ হচ্ছে না নিয়ম অনুযায়ী। বালুর পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে মাটি, মানুষের পুরোনো বাসাবাড়ির ভাঙচুরের ইটের খোয়া ও তার অবশিষ্ট অংশের ধুলোবালি। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় এই সড়ক টেকসই হবে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে গাজীপুর সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মুহাম্মদ রুবাইয়াত জামান বলেন, এর আগেও অভিযোগ পেয়েছি। আমি বিষয়টি দেখছি। আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেব। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে তারা অভিযোগ করেন, সড়কের কাজ তদারকিতে উপজেলা ও জেলা এলজিইডির কর্মকর্তাদের গাফিলতি থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যাচ্ছেতাইভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে সরকারের উন্নয়নের উদ্দেশ্য ভেস্তে যাচ্ছে। সরেজমিন দেখা যায়, নিম্নমানের দুই নম্বর ইট দিয়ে কাজ করায় সড়কের বিভিন্ন জায়গা ভেঙে গেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় ছোট ছোট কালভার্টগুলোতেও ধরেছে ফাটল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের শিরিরচালা গিয়াসউদ্দিনের মোড় থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত ৩ হাজার মিটার কার্পেটিং সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৭৬ লাখ ৮ হাজার ৩৪৬ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর পেরিয়ে গেলেও ৩০ ভাগ কাজ এখনও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে কাজে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোনালিসা এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে। বারবার অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মেসার্স মোনালিসা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি জাকির হোসেন বলেন, এসব বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলব না। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানার জন্য গাজীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলীর দফতরে তথ্য নিতে গেলে তথ্য দিতে গড়িমসি করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, যেভাবে কাজ হচ্ছে তাতে অল্প দিনেই সড়ক ভেঙে খানাখন্দ তৈরি হবে এবং চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।