রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় সফল জয়িতা মুনার গল্প

আমিরুল ইসলাম মো. রাশেদ

সারাদেশ

মুনা চৌধুরী। ক্যাটারিং থেকে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় সফল একজন হার না মানা উদ্যোক্তার নাম। পিৎজা ডেলিভারির মাধ্যমে শুরু হওয়া উদ্যোগ থেকে

2024-06-26T01:51:12+00:00
2024-06-26T01:51:12+00:00
 
  শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
সারাদেশ
রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় সফল জয়িতা মুনার গল্প
আমিরুল ইসলাম মো. রাশেদ
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ জুন, ২০২৪, ১:৫১ এএম   (ভিজিট : ৫৮৫)
রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় সফল জয়িতা মুনার গল্প
মুনা চৌধুরী। ক্যাটারিং থেকে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় সফল একজন হার না মানা উদ্যোক্তার নাম। পিৎজা ডেলিভারির মাধ্যমে শুরু হওয়া উদ্যোগ থেকে এখন মাসে আয় হয় লাখ টাকা। তার ধৈর্য আর অধ্যবসায় ২০২৩ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সম্মাননা জয়িতা নির্বাচিত হন মুনা। 

ছেলেবেলা থেকে মুনা চৌধুরীর ইচ্ছে ছিল আইনজীবী হয়ে নিরীহ মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। সেই বুকভরা আশা নিয়েই স্নাতক শেষ করেই ২০০০ সালে ভর্তি হয়েছিলেন আইন কলেজে। কিন্তু সেই পথে এগোতে পারেননি বেশিদূর। এলএলবি শেষ না হওয়ার আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাকে। কক্সবাজারের রামু উপজেলার মণ্ডলপাড়ার এক স্বনামধন্য পরিবারের মনির আহম্মেদ চৌধুরীর ছেলে মাহবুব আলম চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ে হয় মুনার। মুনা ভেবেছিলেন অন্যান্য বাঙালি মেয়ের মতো বিয়ের পরেই তার জীবন চলবে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে তাল মিলিয়ে। কিন্তু এ দিকটায় নিজেকে ভাগ্যবান বলেই মনে করেন তিনি। বর মনির তার জীবনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতেন না, বরং সমঝদার পুরুষের মতো স্ত্রীর সিদ্ধান্তকে সবসময়ই স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। বিয়ের পর আর পড়াশোনায় ফেরা হয়নি মুনার। এরই মধ্যে জীবনে এসেছে দুই সন্তান। বরের সহযোগিতায় মুনা ২০০৭ সালে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। চাকরি জীবনে সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল কিন্তু ২০১০ সালে মুনার তৃতীয় সন্তান আসার কারণে ছাড়তে হলো সেই চাকরিও। 

তৃতীয় সন্তান একটু বড় হওয়ার পর আবারও চাকরিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিলেন মুনা। কিন্তু এবার তার মনের ভেতর থেকে কোনো এক বাধা তাকে চাকরিতে যোগদান করতে দিল না। বাচ্চাগুলো তখনও বেশ ছোট। তাদের রেখে দীর্ঘসময় বাইরে থাকতে মায়ের মন সায় দিত না। নিজ থেকেই কিছু করার চিন্তা করছিলেন। চেষ্টা করছিলেন আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। সমাজের চক্ষুলজ্জা, অবসাদ আর শৃঙ্খলার সীমানা পেরিয়ে মাত্র ৩০০ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করে দেন ক্যাটারিং ব্যবসা। মাত্র একটা পিৎজা ডেলিভারি দিয়েই শুরু হয় তার ব্যবসায়িক জীবন। মুনার বাবার বাড়ি ও শ^শুরবাড়ির সবাই বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সহযোগিতার হাত। 

প্রতিটি ব্যবসারই একটি টার্নিং পয়েন্ট থাকে। ব্যবসাকে আরও সুদৃঢ় করতে ক্যাটারিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে তিনি চলে যান ঢাকায়। এই প্রশিক্ষণই ছিল মুনার টার্নিং পয়েন্ট। ঢাকা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসার পর মুনার আর পেছনে তাকাতে হয়নি কখনো। সেই ৩০০ টাকা থেকেই শুরু করে তার এখন লাখ লাখ টাকা পুঁজি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ক্যাটারিং ব্যবসায়। তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন ৫ জন নারী কর্মী ও একজন ডেলিভারি ম্যান। প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্যাটারিং সরঞ্জামও কিনেছেন তিনি। আজ কক্সবাজারের নারীদের এক অনন্য আইডল হয়ে উঠেছেন মুনা। বিভিন্ন সংস্থায় যেকোনো অনুষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের জন্য তিনি হয়ে উঠেছেন কক্সবাজারের অনন্য নাম।

সব চলছিল ঠিকঠাকভাবেই। হঠাৎ এক ঝড়ে তছনছ হয়ে যায় সব। ২০২২ সালে মুনা তার স্বামীকে হারান। তিন সন্তান নিয়ে মুনার জীবনে যেন নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। কিন্তু দমে যাওয়ার মেয়ে কখনো মুনা ছিলেন না। তাই স্বামী হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি আবারও মনোযোগ কেন্দ্রিভূত করেন ব্যবসায়। 

বর্তমানে ‘মুনার হ্যাশেল’ পেইজ ছাড়িয়ে মুনা গড়ে তুলেছেন তার নিজস্ব রেস্টুরেন্ট, সেই রেস্টুরেন্টের মাধ্যমে মুনা চান রান্না দিয়ে পর্যটক এবং স্থানীয়দের জন্য মানসম্মত ও ভিন্ন স্বাদের খাবার পরিবেশন করতে। যার মাধ্যমে মানুষ কক্সবাজারকে নতুনভাবে চিনবে। তা ছাড়াও মুনার ইচ্ছে আছে কক্সবাজারের পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে ক্যাটারিং প্রশিক্ষণশালা গড়ে তোলার। সেই প্রশিক্ষণশালা তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়তা করবে।

২০২০ সালে সিওয়াইইসি বেস্ট উইমেন অন্ট্রপ্রনার পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়াও ২০২১ সালে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হন এবং ২০২৩ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত মুনা।
মুনা চৌধুরী সময়ের আলোর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তিনি কিছু করতে চান। এরই মধ্যে নিজেকে দক্ষ যুব নারী নেতৃত্বের জায়গাতেও নিয়ে গেছেন তিনি। তিনি স্বপ্ন দেখেন দেশের আর্থ-সামাজিক অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ প্রভাব বিস্তারের জন্য দক্ষ নারী শ্রম তৈরি করার। একসঙ্গে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সচেতনতামূলক কর্মসূচিকে একত্রিত করে নারীদের উৎসাহিত করা তার চাওয়া, তার মতোই অন্য নারীরাও যার যার জায়গা থেকে সম্ভাব্য খাতগুলোতে উদ্যোক্তা বা পেশাজীবী পরিচয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেন। তবে সবকিছুর জন্য তিনি সরকারি অর্থ সহযোগিতা চান।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: