টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নোয়াখালীর সরকারি অফিস

নোয়াখালী প্রতিনিধি

সারাদেশ

দু’দিনের ভারী ও টানা বর্ষণে নোয়াখালী জেলা শহরে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। দুর্ভোগে পড়েছে শহরের বাসিন্দারা। ডুবে গেছে বিভিন্ন সড়ক। পানি

2024-07-02T17:35:23+00:00
2024-07-02T17:35:23+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নোয়াখালীর সরকারি অফিস
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০২৪, ৫:৩৫ পিএম 
টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নোয়াখালীর সরকারি অফিস
দু’দিনের ভারী ও টানা বর্ষণে নোয়াখালী জেলা শহরে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। দুর্ভোগে পড়েছে শহরের বাসিন্দারা। ডুবে গেছে বিভিন্ন সড়ক। পানি ঢুকেছে বাসা-বাড়িতে। জলাবদ্ধতা থেকে বাদ যায়নি জেলার সরকারি অফিস সমূহ। ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে সেবা। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে দুই দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন নোয়াখালী পৌর মেয়র। 

মঙ্গলবার (২ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তর নোয়াখালী কার্যালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা শহরে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পানিতে ডুবে গেছে বিভিন্ন সরকারি অফিস। এর মধ্যে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়, জেলা আবহাওয়া অফিস, জেলা মৎস্য অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি অফিস সমূহ। পানিতে ডুবে গেছে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা সিভিল সার্জন বাসভবনের সড়ক। জীবিকার তাগিদে বের হওয়া শ্রমজীবী-কর্মজীবী, অফিসগামী মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ে। এছাড়া স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়ে বিপাকে।

মোাজাম্মেল হোসেন নামে একজন বলেন, বর্ষার সময় বৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বৃষ্টির পরে শহরে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে তাতে ভোগান্তি চরমে। বড় মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তাকে নিয়ে পানি মাড়িয়ে পরীক্ষা সেন্টারে যেতে খুবই কষ্ট হয়েছে।

আলাউদ্দিন নামে আরেকজন বলেন, পুরো শহরে যে অবস্থা তাতে বৃষ্টি এভাবে অব্যাহত থাকলে সবই ডুবে যাবে। সামিহা নামে একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের স্কুলের সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। যাওয়া আসা করতে কষ্ট হচ্ছে।

একটি সরকারি অফিসে সেবা নিতে আসা কামরুন নাহার বলেন, এমন আজব পরিস্থিতিতে কখনো পড়িনি। এতো গুরুত্বপূর্ণ অফিস অথচ পানির নিচে ডুবে গেছে। সেবা প্রত্যাশীদের অসুবিধা হচ্ছে। যারা সেবা দিচ্ছে তারাও পানিতে ডুবে ডুবে সেবা দিচ্ছে। লজ্জায় পড়েছি এই অফিসে এসে।

পৌর বাসিন্দা আবদুর জলিল বলেন, সড়কের থেকে ড্রেনের উচ্চতা বেশি তাই পানি রাস্তায় জমে থাকে। এতে করে জলাবদ্ধতা যেমন হয়, তেমন সড়কেরও ক্ষতি হয়। কারা এসব ড্রেন তৈরি করে মাথায় আসে না। বেশিরভাগ ড্রেন ও নালা বন্ধ রয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিসে সেবা নিতে আসা মো. সাইফ বলেন, মৎস্য অফিসে মাছ চাষ করার মতো জলাবদ্ধতা হয়েছে। এই অবস্থা যদি জেলা শহরে হয় তাহলে আমাদের বলার কিছু থাকে না। যারা ভোগান্তিতে আছে তারাই বুঝবে কত কষ্ট।

জেলা প্রশাসকের বাংলোর একজন কর্মচারী বলেন, ডিসি স্যারের বাংলোর সামনের সড়কে পানি উঠে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বাংলোতেও পানি ঢুকবে। এক ভয়াবহ অবস্থার ভেতরে আছি।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ইব্রাহিম বলেন, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নিচ তলায় আমার অফিস। আমার অফিসে পানি ডুকেছে। আমি নিজেই জলাবদ্ধতায় আটকে আছি। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধের পথে এই জলাবদ্ধতার কারণে। পাশাপাশি বিভিন্ন নথিপত্র ও আসবাবপত্র ক্ষতির মুখে আছে। কি বলব আমার বাসভবনের সড়কটিও ডুবে গেছে জলাবদ্ধতায়।

জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আজও সারা দিন বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে আমার অফিস ও সড়ক ডুবেছে। আমিও জলাবদ্ধতায় আটকে আছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী আমির ফয়সাল বলেন, জলাবদ্ধতা রোধ প্রকল্পে শহর ও আশপাশের ১৬১ কিলোমিটার খাল খনন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড নোয়াখালী। সাথে সাথে নোয়াখালী খালও খনন করা হয়েছে। যেটা নোয়াখালীর দুঃখ ছিল। তবে পুরোপুরি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে ড্রেন ও নালা রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।

নোয়াখালীর পৌরসভার মেয়র সহিদ উল্যাহ খান সোহেল বলেন, সরকারি অফিসসহ বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতার ফলে ভোগান্তির বিষয়ে আমি খবর পেয়েছি। আসলে ড্রেনগুলো পরিষ্কার না থাকায় এমন হয়েছে। পৌরসভার কর্মীরা কাজ করছে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে এটা হয়েছে। আগামী দুই এক দিনের মধ্যে এটি সমাধান হয়ে যাবে বলে আমি আশা করছি।

সময়ের আলো/আরআই



  বিষয়:   টানা বৃষ্টি  শহরে জলাবদ্ধতা  দুর্ভোগে শহরবাসী  নোয়াখালী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: