বেরিয়ে আসছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও সাদিক এগ্রোর দুর্নীতির তথ্য

রফিকুল ইসলাম সবুজ

অপরাধ

ছাগলকাণ্ডে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআরের) কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির তথ্য আলোচনায় আসার পর অন্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি

2024-07-03T07:13:26+00:00
2024-07-03T07:13:26+00:00
 
  শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬,
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
অপরাধ
বেরিয়ে আসছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও সাদিক এগ্রোর দুর্নীতির তথ্য
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুলাই, ২০২৪, ৭:১৩ এএম 
বেরিয়ে আসছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও সাদিক এগ্রোর দুর্নীতির তথ্য
ছাগলকাণ্ডে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআরের) কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির তথ্য আলোচনায় আসার পর অন্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এবার বেরিয়ে আসছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও আলোচিত সাদিক এগ্রোর দুর্নীতির তথ্য।

গবাদিপশুর খামার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সভাপতি সাদিক এগ্রোর মালিক ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ব্রাহমা জাতের গরু আমদানি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গরুর দাম বৃদ্ধির অভিযোগও পাওয়া গেছে। তার এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তারাও।

সম্প্রতি এনবিআর সদস্য মতিউর রহমানের ছেলের কাছে ১৫ লাখ টাকায় ছাগল বিক্রি নিয়ে আলোচনায় আসে সাদিক এগ্রো। মতিউরের ছেলের ছাগলকাণ্ডের পরই বেরিয়ে আসতে শুরু করে এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর এবং তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের অবৈধ অঢেল সম্পদের খোঁজ। পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে কোটির টাকার গরু এবং ১২ লাখ টাকা ছাগল বিক্রি করা সাদিক এগ্রো ও তার মালিক ইমরান। ২০২১ সালে জালিয়াতির মাধ্যমে ব্রাহমা গরু আনায় বিতর্কিত হওয়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও সামনে আসতে থাকে। অনুমতি না থাকা ও খালের জায়গা দখল করায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কয়েক দিন আগে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদপুরে সাদিক এগ্রোর খামার ভেঙে দিয়েছে। এ ছাড়া গত সোমবার সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নে সাদিক এগ্রোতে অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ৯ সদস্যের একটি দল। এ সময় খামারটিতে সন্ধান মেলে ১০টি ব্রাহমা জাতের গরু ও আলোচিত সেই ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ছাগলটির।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২১ সালের ৫ জুলাই বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ব্রাহমা জাতের ১৮টি গরু আমদানি করেছিল সাদিক এগ্রো। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গরুগুলো জব্দ করে কাস্টমস বিভাগ। পরে সেগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হেফাজতে সাভারের কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে রাখা হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে সাভারেই গরুগুলো ছিল। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর কৌশলে সেই গরু সাদিক এগ্রোকেই দিয়েছিল বলে ছাগলকাণ্ডের পর বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। গত রমজানে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উদ্যোগে ঢাকায় কিছুটা কম দামে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করা হয়। সেখানে এবার মাংস সরবরাহ করেছে ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন। মোট চাহিদার অর্ধেক মাংসবাবদ কম দামে ৪৮৮টি গরু সরবরাহ করা হয়েছিল প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের বিভিন্ন খামার থেকে। এর মধ্যে ১৫টি ব্রাহমা গরু ছিল। বাকি তিনটি মারা গেছে। সাদিক এগ্রো তখন ১৫টি ব্রাহমা গরু নিলেও মাংস সরবরাহ করেছিল অন্য গরুর। আর এই বিদেশি জাতের গরুগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চমূল্যে কুরবানির জন্য বিক্রি করেছিল তারা।

তবে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাদিক এগ্রোর মালিক ইমরান হোসেন জানিয়েছেন, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কাছ থেকে ব্রাহমা গরুগুলো কিনলেও শর্তে এমন কিছু উল্লেখ ছিল না যে এই গরুগুলো মাংস হিসেবেই বিক্রি করতে হবে। তাই তিনি অন্য গরুর মাংস বিক্রি করেছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুই থেকে আড়াই বছরের দেশি গরুর ওজন ২৫০ থেকে ৩৫০ কেজি হলেও ব্রাহমা জাতের গরুর ওজন হয় ৮০০ থেকে ১ হাজার কেজি। মাংসের উৎপাদন বেশি হলেও ব্রাহমা জাতের গরু বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ব্রাহমা পালনের অনুমতি দেওয়া হলে দুধ বেশি দেওয়া গরুর পালন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ব্রাহমা গরু ছাড়াও প্রাণিসম্পদ খাতের প্রকল্প, অনুদানসহ নানা বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সাদিক এগ্রোর বিরুদ্ধে। তার সঙ্গে অধিদফতরের কয়েকজন কর্মকর্তাও জড়িত রয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ রেয়াজুল হক জানান, ব্রাহমা গরুগুলো সাদিক এগ্রোর কাছে বিক্রির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। গরুগুলো বিক্রির সব প্রক্রিয়া আগের মহাপরিচালক করে গেছেন।

তিনি বলেন, ইমরান হোসেনের কাছে তারা মাংস চেয়েছেন। তিনি মাংস দেওয়ার পর তা বুঝে নেওয়া হয়েছে। কোন গরুর মাংস তিনি দিয়েছেন, তা মিলিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি।

অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মো. এমদাদুল হক তালুকদারের সময় গরুগুলোকে সাদিক এগ্রোর কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। তিনি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অবসরে গেছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পের অকল্পনীয় দুর্নীতি করেও বহাল তবিয়তে ছিলেন প্রকল্পটির সাবেক পিডি ও সাবেক মহাপরিচালক মো. এমদাদুল হক তালুকদার। দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও সেটিকে ধামাচাপা দিয়েছিলেন তিনি। প্রভাব খাটিয়ে হয়েছিলেন সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পের পিডি। এমদাদুল হক তালুকদার ঢাকা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসাবে টানা ৬ বছর দায়িত্বে থাকাকালীন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে টাকার পাহাড় গড়ে তোলেন। খামারিদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় ছাড়াও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিভিন্ন খাদ্য ও ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্পে সুনির্দিষ্ট আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়লেও বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে গেছে।

এ বিষয়ে সাবেক মহাপরিচালক মো. এমদাদুল হক তালুকদারের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
অপরাধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: