বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় কমছে সাঙ্গু নদীর পানি। ছবি: সময়ের আলো
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভারী বর্ষণ না হওয়ায় ও উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় কমছে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি। সেই সঙ্গে নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এতে মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বুধবার (৩ জুলাই) সকাল থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (দুপুর সাড়ে ৩টা) সাতকানিয়ায় কয়েক দফা হালকা থেকে মাঝারি আকারের বৃষ্টি হয়েছে। তাই সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার আশঙ্কা করেছিলো স্থানীয়রা। তবে আজ (বুধবার) সকাল থেকে নদীর পানি কমে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মাঝে। তবে আবারও ভারী বর্ষণ শুরু হলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানায়, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া কেঁওচিয়া ও ছদাহা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলের পানি অনেকটা কমেছে। সেইসঙ্গে গত দুদিন কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের উপর পানি প্রবাহিত হয়ে যান চলাচলে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও আজ (বুধবার) সকাল থেকে পানি নেমে গেছে। ফলে নির্বিঘ্নে যান চলাচল করছে।
উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রায়হান বলেন, বুধবার সকাল থেকে তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমেছে। এতে আমাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
একই ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও বান্দরবান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সাহাব উদ্দিন বলেন, কেরানীহাট-বান্দরবান সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। এতে এই সড়ক দিয়ে বান্দরবানে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে যানবাহন।
আমিলাইষ ইউনিয়নের বাসিন্দা সংবাদকর্মী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বৃষ্টি কমে যাওয়ায় পানি অনেকটা কমে গেছে। উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টি না হলে বন্যা হবে না।
ছদাহা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ফারুক বলেন, গত দুদিন ভারী বৃষ্টি থাকায় হাঙ্গর খাল উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। তবে এখন তেমন বৃষ্টি হচ্ছে না। যদি ভারী বৃষ্টি না হয় তাহলে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
এদিকে সাঙ্গু নদীর বাজালিয়া অংশের চৌধুরী পাড়াস্থ বাঁধটির কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ায় জনমনে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। কয়েক দফা বরাদ্দের পরও বাঁধটির কিছু অংশ অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ায় বন্যাতঙ্কে দিনপার করছেন স্থানীয়রা। বিগত বছরগুলোতে এ বাঁধ দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করার ফলে নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দেয়। সাঙ্গুর পানি লোকালয়ে প্রবেশ ঠেকাতে বাঁধটির কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্ত বলেন, পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীতে ভেসে আসা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহে ব্যস্ত লোকজনকে সতর্ক করা হচ্ছে। এ ছাড়াও নদীর তীরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ও সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন বিশ্বাস বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকতে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে জনসাধারণকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের তালিকা তৈরি করছি। তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, সাঙ্গু নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।