এখনো পানির নিচে নোয়াখালীতে অফিস-রাস্তাঘাট, সীমাহীন ভোগান্তি

নোয়াখালী প্রতিনিধি

সারাদেশ

টানা বৃষ্টিতে নোয়াখালী পৌর শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ি ও পাড়া-মহল্লা এখনো পানির নিচে রয়েছে। এত

2024-07-03T22:01:23+00:00
2024-07-03T22:01:23+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
এখনো পানির নিচে নোয়াখালীতে অফিস-রাস্তাঘাট, সীমাহীন ভোগান্তি
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুলাই, ২০২৪, ১০:০১ পিএম 
এখনো পানির নিচে নোয়াখালীতে অফিস-রাস্তাঘাট, সীমাহীন ভোগান্তি
টানা বৃষ্টিতে নোয়াখালী পৌর শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ি ও পাড়া-মহল্লা এখনো পানির নিচে রয়েছে। এত চরম দুর্ভোগে পড়েছে পৌর বাসিন্দারা। তারা বলছে অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে জলাবদ্ধতা কমবে না। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের কর্মীরা কাজ করছে। অতি শীঘ্রই এই সংকট কেটে যাবে। তবে যদি অতিবৃষ্টি অব্যাহত থাকে তাহলে সময় লাগবে।

বুধবার (৩ জুলাই) সরেজমিনে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ সড়ক পানিতে ডুবে রয়েছে। সড়কের আশপাশের বাসাবাড়ির আঙিনায় বৃষ্টির পানি জমে আছে। পানিতে সয়লাব হলে রয়েছে পুলিশ সুপার কার্যালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা শিক্ষা কার্যালয়, গণপূর্ত বিভাগ, হাকিম কোয়ার্টার, সরকারি মহিলা কলেজ রোড, দরগা বাড়ি সড়ক, লক্ষীণারায়ণপুর সড়ক, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাংলো সড়ক, সেন্ট্রাল রোডের বিভিন্ন অংশ, মাইজদী হাউজিং স্টেটের বিভিন্ন সড়ক, হরিণারায়নপুর সড়ক, নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনের অংশ, পৌর বাজারসহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়কসমূহ। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শহরের বাসিন্দা ও বিভিন্ন কাজে শহরে আসা মানুষজন চলাচলে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

মাইজদী হাউজিং এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, শহরের যে ড্রেনগুলোর রয়েছে তা উপযুক্ত নয়। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এ ড্রেনগুলো দিয়ে পানি নিষ্কাশন হবে না। ড্রেন সরু, আবর্জনায় ভরাট। তাই ভারী বৃষ্টি হলে শহরের আনাচে-কানাচে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ রোডের বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, এই রাস্তাটি এমনিতেই নিচু। তার উপর আবার ভাঙ্গা। দু’দিনের বৃষ্টিতেই এলাকাবাসীর ত্রাহি অবস্থা। কেউ ঘর থেকে প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন না। আমরা জীবিকার তাগিদে বের হয়েছি। যানবাহন এ রোডে আসতে চায় না। পানি মাড়িয়ে কষ্ট করে হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে।

পৌর বাজার এলাকার বাসিন্দা কামরুল হোসেন বলেন, বাজারের ভিতর দিয়ে হাঁটা যায় না। প্রায় হাঁটু পরিমাণ পানি। তার উপর আবার ময়লা আবর্জনা। এসব পানিতে হাঁটলে চর্ম রোগ অনিবার্য। কিন্তু আমরা বিপাকে। পৌর বাজারের আশেপাশে যারা থাকে তারা সংকটে আছে। পৌরসভা পরিচালিত এ বাজারে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। কিন্তু পৌর বাজারের ব্যবসায়ীরা পৌরসভাকে ট্যাক্স দিয়ে আসছে।

মো. ইসমাঈল হিরণ নামে একজন ঠিকাদার বলেন, প্রতিটি অফিসের সামনে পানিতে সয়লাব। ঢুকতে-বের হতে সমস্যা হচ্ছে মানুষের।

নাম প্রকাশে বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, আমাদের’তো অফিসে আসতে হবে। বৃষ্টির পানি মাড়িয়ে ঘর থেকে বের হওয়া, আবার জমে থাকা পানি দিয়ে হেঁটে হেঁটে অফিসে ঢুকা, অত্যন্ত কষ্টকর। বিকেলে আবার সেই একই অবস্থা হবে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেন বলেন, বৃষ্টির পানি জমা থাকার কারণে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে যারা সেবা নিতে আসছেন তাদের সাময়িক কষ্ট হচ্ছে। পানি মাড়িয়ে তাদের অফিসে ঢুকতে হচ্ছে। আবার আমাদের নীচ তলার দাপ্তরিক কার্যালয়েও পানি জমে আছে। তাই দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে দ্বিতীয় তলায় শিফট করা হয়েছে।

নোয়াখালী পৌরসভার প্যানেল মেয়র রতন পাল জানান, নোয়াখালী পৌর এলাকাটি নিচু এলাকা। একটু বৃষ্টি হলেই সমস্যা হয়। দু’দিনের ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের কর্মীরা কাজ করছে। পৌরসভার ভিতর পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন যেসব খাল রয়েছে সেগুলো দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি সরতে সময় লাগছে। তবে আশা করছি শীঘ্রই জলাবদ্ধতা কমে যাবে।

সময়ের আলো/আরআই





  বিষয়:   টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা  পানিতে সয়লাব অফিস-রাস্তাঘাট  নোয়াখালী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: