অনাহারে বানভাসিরা

সময়ের আলো ডেস্ক

সারাদেশ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে যমুনানহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গতকাল দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির

2024-07-07T03:46:22+00:00
2024-07-07T03:46:22+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
অনাহারে বানভাসিরা
সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৭ জুলাই, ২০২৪, ৩:৪৬ এএম 
অনাহারে বানভাসিরা
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে যমুনানহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গতকাল দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। মানুষের খাবারের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে গো খাদ্য সংকট। কখনো একবেলা আহার জুটলেও জুটছে না আরেক বেলা। অনেককেই শুকনো খাবার খেয়েই কাটিয়ে দিতে হচ্ছে দুই বেলা। টিউবওয়েলগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।

জামালপুরের বকশীগঞ্জে বন্যায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দফায় দফায় বন্যায় দিশাহারা হয়ে পড়েছে সিলেটে বন্যার্তরা। সেখানে ৩৯৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। কুড়িগ্রামে ভেলা চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই বোনসহ তিনজন মারা গেছে। বন্যায় জেলার ৪৩টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দিনাজপুরে বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে আত্রাই নদীর পানি। লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বাড়ায় জেলায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বাড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চারদিকে শুধু পানি আর পানি। মাঝখানে থাকা বাড়ি ও পাড়াগুলো যেন দ্বীপের মতো ভাসছে। টাঙ্গাইলে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, ভেঙে যাচ্ছে সড়ক। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

জামালপুর : জেলার বকশীগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃৃষ্ট বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অবস্থিত সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। পানিবন্দি হয়েছে সাধুরপাড়া, মেরুরচর ও বগারচর ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। পানিবন্দি মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদ, দশানী নদী ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি বৃদ্ধির সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বিলের পাড়, ডেরুরবিল, চর গাজীরপাড়া, কুতুবের চর, আচা কান্দি, উত্তর আচা কান্দি, শেখপাড়া, মদনের চর, চর কামালের বার্ত্তী, চর আইরমারী, আইরমারী, তালতলা গ্রাম, মেরুরচর ইউনিয়নের খেওয়ারচর, আউল পাড়া, চিনারচর, পূর্ব কলকিহারা, উজান কলকিহারা, ভাটি কলকিহারা, মাইছানিরচর ও মাদারেরচর এলাকার নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

পানির তোড়ে আচা কান্দি গ্রামের সড়ক ভেঙে গেছে। গাজীরপাড়া বাজার থেকে কামালের বার্ত্তী সড়কের ঠান্ডার বন্দ গ্রামে এলজিইডির পাকা সড়কটির পার ধসে যাওয়ায় যেকোনো সময় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ কারণে এই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্যার পাশাপাশি চলছে নদীভাঙন। কুতুবের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। আইরমারী খান পাড়া, কুতুবের চর, বাংগালপাড়া পূর্ব কলকিহারা বাগাডুবা, ফকির পাড়া ও আউল পাড়া এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মজনুর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১০ টন জিআর চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

সিলেট : জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দুর্দশা কাটছে না পানিবন্দি মানুষের। এক মাসের মধ্যে তিন দফা বন্যায় খাদ্য সংকটে পড়েছেন বন্যাকবলিতরা। বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পানি নামছে না। গ্রামীণ সড়কগুলো তলিয়ে থাকায় পাঠানো যাচ্ছে না ত্রাণ সহায়তা। ফলে বন্যার্তদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। এক মাসের মধ্যে তিন দফা বন্যায় সর্বস্ব হারিয়ে পানিবন্দি মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এখনও বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাটে কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাওবা কোমরপানি মাড়িয়ে বন্যার্তদের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।

তৃতীয় দফায় বন্যায় সিলেটের জকিগঞ্জে দুটিসহ বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।ভাঙনকবলিত এলাকা দিয়ে হু হু করে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খুশীমোহন সরকার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বেডিবাঁধ মেরামত চলাকালে আবারও বন্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া কাজ চলাকালে আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁধ। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধ মেরামত করা হবে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস জানান, সিলেটের সব নদীর পানি কমছে। সুরমা ও কুশিয়ারার পানি ৪ পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এদিকে বন্যায় সিলেট জেলার মোট ১ হাজার ৪৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৯৮টিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, ৩৯৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬৭টি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। আর বাকিগুলো পানিতে নিমজ্জিত।

কুড়িগ্রাম : জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী, নুনখাওয়া ও হাতিয়া পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে নদ-নদী তীরবর্তী ৪৩টি ইউনিয়নের ২ শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। শনিবার সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ও হাতিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বানভাসি পরিবারগুলো বসতবাড়িতে বাঁশের মাচান, নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অধিকাংশ পরিবারে পাঁচ দিন ধরে চুলা জ্বলছে না। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে তাদের গৃহপালিত পশুপাখি। চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে গো খাদ্যের তীব্র সংকট।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল গফুর বলেন, আমার ইউনিয়নের অনেক চর ও দ্বীপ চর তলিয়ে গেছে। এ ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বাবলু মিয়া জানান, এ ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি আরও ৪৮ ঘণ্টা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, প্রশাসন বন্যার্তদের পাশে থেকে দুর্ভোগ কমাতে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানা এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই বোনসহ তিনজন মারা গেছেন। নিহতরা হলেন-নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের বেগুনী পাড়া গ্রামের শাহাদাৎ হোসেনের দুই মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১১), মাছুমা খাতুন (৬) এবং নারায়ণপুর ইউনিয়নের ব্যাপারী পাড়া গ্রামের মৃত আবদুর রহমান মুন্সির ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩৫)।

কচাকাটা থানার পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সুমাইয়া ও মাছুমা কলাগাছের ভেলা নিয়ে বাড়ির পাশে খালার বাড়িতে রওনা দেয়। এ সময় বাড়ির কাছে তাদের সেচ পাম্পের টাঙানো বিদ্যুতের তারে দুই বোনের গলা আটকে যায়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়ণপুর ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ভেলাযোগে পাশের বাড়িতে যাওয়ার সময় ভেলার বাঁশের লগি বিদ্যুৎ সরবরাহের মেইন লাইনের তারে সংগে লাগে। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তারও মৃত্যু হয়। কচাকাটা থানার ওসি বিশ^দেব রায় বলেন, তিনজনের মরদেহ পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর : জেলায় আত্রাই, পুনর্ভবা, ইছামতী এই প্রধান তিনটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সিদ্দিকুর জামান নয়ন সময়ের আলোকে জানান, শনিবার সকাল ৯টায় জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রধান তিনটি নদীর মধ্যে আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকালের তুলনায় এই নদীর পানি বেড়েছে ৭৭ সেন্টিমিটার। এ ছাড়াও পুনর্ভবা, ইছামতী এই প্রধান দুই নদীর পানিও বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জুর রহমান সময়ের আলোকে জানান, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দিনাজপুর জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ২০ মিলিমিটার। এই বৃষ্টিপাত আগামীকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

লালমনিরহাট : টানা ভারী বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢালে আবার বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলসহ লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) বিপদসীমার দশমিক ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আকস্মিক তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় দিন যাপন করছে নদী তীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার পরিবার।

তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, চর-সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ীর নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় আবারও ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করায় আতঙ্কে অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন। গত তিন ঘণ্টায় পানি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া পয়েন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা-উদ দৌলা বলেন, পানির চাপ সামলাতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ : পানি বৃদ্ধিতে যমুনার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ফুলজোড়, ইছামতী, করতোয়া নদীসহ চলন বিলাঞ্চলের নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। এতে জেলার ৫টি উপজেলার ১ হাজার ২৭৬ পরিবারের সাড়ে ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি মানুষদের মধ্যে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

১২ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ও কাজিপুরের মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলার চরাঞ্চলের ৪০০ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। শনিবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রনজিত কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা, শাহজাদপুরের হাটপাচিল ও কাজিপুরের খাসরাজবাড়িতে চলছে নদীভাঙন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ এলাকায় শত শত বাড়িঘর যমুনায় বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর জানান, বন্যার পানি উঠে জেলার ৪০৮ হেক্টর জমির পাট, তিল, কলা ও মরিচ ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। এখনও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, জেলার ৫টি উপজেলার ১ হাজার ২৭৬টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে। ৫০০ টন চাল আর ১০ লাখ টাকা মজুদ আছে। সময়মতো সেগুলো বিতরণ করা হবে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান জানান, আগামী ২-৩ দিন ধীরগতিতে পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। জেলার ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোয় জিওটিউব ও জিওব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

গাইবান্ধা : অনবরত বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উজান থেকে ধেয়ে আসা তিস্তার ঢলে প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫ হাজার ২০০ পরিবারের অন্তত ২০ হাজার মানুষ। ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে দুটি স্কুলসহ ৪৫০টি পরিবারের ভিটেমাটি। বুক পানির মধ্যে খেয়ে না খেয়ে এখন কাটছে তাদের মানবেতর জীবন। প্রকৃতির এমন নির্মমতার চিত্র এখন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের তিস্তা নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলের।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশের গ্রামগুলোসহ তিস্তার দুই পারের বিস্তৃত এলাকা বৃষ্টি ও বন্যার জলে থইথই করছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। মাঝখানে থাকা বাড়ি ও পাড়াগুলো যেন দ্বীপের মতো ভাসছে। বানের জলে ডুবে গেছে ৩৩৫ হেক্টর পাট, ৭৭০ হেক্টর আউশ, ৬৯ হেক্টর শাকসবজি ও ১২৪ হেক্টরের আমন বীজ তলা। পথঘাট ডুবে যাতায়াতের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে বানভাসিদের।

ভরসা একমাত্র নৌকা কিংবা ভেলা। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাওবা কোমরপানি, আবার কোথাওবা বুকপানি থাকায় রান্না করারও উপায় নেই কারও কারও। কখনো একবেলা আহার জুটলেও জুটছে না আরেক বেলা। অনেককেই শুকনো খাবার খেয়েই কাটিয়ে দিতে হচ্ছে দুই বেলা। টিউবওয়েলগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।

সরেজমিন দেখা যায়, পরিবার-পরিজন, হাঁস-মুরগি এবং গবাদিপশু নিয়ে মহাবিপদে পড়েছেন বানভাসিরা। তারওপর সর্বনাশা তিস্তা ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে হরিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৪৫০টি পরিবারের বসতবাড়ির সঙ্গে দুটি স্কুল। বাড়িঘর হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন অন্তত ২ হাজার মানুষ। আর পানিবন্দি হয়েছেন ৯টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এদের মধ্যে কেউ কেউ আশ্রয় নিয়ে অন্যের উঁচু বাড়ি কিংবা নিকটস্থ স্কুলগুলোতে। জিনিসপত্র সরাতে পারেননি বলে কেউ কেউ রয়েছেন পানিবন্দি বাড়িতেই।

টাঙ্গাইল : জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পানিবন্দি হয়েছে হাজার হাজার পরিবার। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে বন্যার্তরা। দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির অভাব। ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি গ্রামে প্রবেশ করায় একটি পাকা সড়ক ভেঙে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের মানুষজন।

সরেজমিন উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া, ঘোষপাড়া, খানুরবাড়ী, ভালকুটিয়া এলাকায় দেখা গেছে যমুনা নদীর পানি পাড় উপচিয়ে এসব এলাকায় প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষজন। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এসব পানিবন্দি মানুষজন। গত দুদিন ধরে তারা পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যমুনা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় গোবিন্দাসী-কষ্টাপাড়া-ভালকুটিয়া রাস্তাটি ভেঙে গেছে। এতে ওই রাস্তায় চলাচল বন্ধ হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয়রা। গোবিন্দাসী বাজারের কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার গাবসারা, নিকরাইল, অর্জুনা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষজন।

শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত যমুনা নদীর ভূঞাপুর অংশে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। আর বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় যমুনা নদীতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

সময়ের আলো/আরএস/



Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: