উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পয়েন্টে আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। গতকালের তুলনায় ৪৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এই নদীর পানি। এছাড়া জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পুণর্ভবা, ইছামতি এই প্রধান দুইটি নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আত্রাই নদীর পানি খানসামা উপজেলা পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে থাকায় উপজেলার ৫নং ভাবকী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চাকিনিয়া গ্রামের বগুড়াপাড়া প্লাবিত হয়েছে।
রোববার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় পানিবন্দি ৭ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজ উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাবকি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম তুহিনসহ ইউপি সদস্যগণ।
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আজ (রোববার) দুপুর ১২টায় জেলার খানসামা উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকালের তুলনায় এই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৩ সেন্টিমিটার। নদীর এই অংশে বিপৎসীমা ৪৩ দশমিক ৭০ মিটারের বিপরীতে প্রবাহিত হচ্ছে ৪৫ দশমিক ৫০ মিটারে।
তিনি জানান, এই আত্রাই নদীর পানি চিরিরবন্দরের ভূষিরবন্দর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৯ দশমিক ১৫ মিটারের বিপরীতে প্রবাহিত হচ্ছে ৩৮ দশমিক ৬৬ মিটার। এছাড়াও শহরের পাশ ঘেষা পুনর্ভবা নদীর পানি বর্তমানে প্রবাহিত হচ্ছে ৩২ দশমিক ৪৮ মিটার উপর দিয়ে। পুনর্ভবা নদীর বিপৎসীমা ৩৩ দশমিক ৫০০ মিটার। এছাড়াও ফুলবাড়ি উপজেলা পয়েন্টে ইছামতি নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে ২৭ দশমিক ২৭ মিটার ওপর দিয়ে। যদিও এই নদীর বিপৎসীমা হচ্ছে ২৯ দশমিক ৫০০ মিটার।
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সিদ্দিকুর জামান নয়ন সময়ের আলোকে জানান, আজ (রোববার) দুপুর ১২টায় জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রধান তিনটি নদীর মধ্যে আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। গতকালের তুলনায় এই নদীর পানি বেড়েছে ৪৩ সেন্টিমিটার। এছাড়াও পুনর্ভবা, ইছামতি এই প্রধান দুই নদীর পানি আরও বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম হতে চলেছে। তবে উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিপাত হলে অন্যান্য নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা।
খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজ উদ্দিন জানান, উপজেলার নিম্নএলাকার পানিবন্দি ৭ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার দিয়েছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই পানি নেমে যাবে।
সময়ের আলো/আরআই