মিতু আক্তার রাজধানীর উত্তরা ও গাজীপুর এলাকায় সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকে গ্রাহক হিসেবে আনাগোনা করতেন। কোনও ব্যবসায়ী মোটা অংকের টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করলে সেই তথ্য ডাকাত চক্রের মাধ্যমে জানিয়ে দিতো। এরপর চক্রের অন্য সদস্যরা টার্গেটকৃত ব্যবসায়ীকে র্যাব পরিচয়ে রাস্তায় আটক করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে লুট করতেন টাকা। এমনই একটি ঘটনা ঘটে গত ৬ জুন বিকালে। গাজীপুরের শ্রীপুরের সেলভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানার ৩ নম্বর গেটের সামনে ভুয়া র্যাব পরিচয়ে কারখানার ৩ জন কর্মকর্তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ ও জিম্মি করে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ও ট্রাক ভাড়ার ১৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ছিনতাই করে।
কারখানা কর্তৃকপক্ষ গত ৭ জুন বাদী হয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলা ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাবের গোয়েন্দা ও র্যাব-১ সদস্যরা। ১২ জুন ভূয়া র্যাব পরিচয়ে ডাকাত চক্রের আরেক হোতা রুবেলসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (৬ জুলাই) রাতে আত্মগোপনে থাকা ভূয়া সাংবাদিক মিতু আক্তারকে রাজধানীর দক্ষিণখাঁন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব-১ এর সদস্যরা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিতু জানায়, তিনি কোনও সাংবাদিক না। সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে তার দলের অন্য সদস্যরা র্যাব পরিচয়ে ডাকাতি করে আসছিল। ১৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ডাকাতির ঘটনায় তিনি দেড় লাখ টাকা ভাগ পান। এভাবে সব অপরেশনাল ডাকাতি বা অপহরণের পর জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের পর ভাগ পান তিনি।
র্যাব সূত্র জানায়, মিতু ডাকাত দলের চক্রের সঙ্গে থেকে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করতেন। তার রুমমেট আরেক নারীর সঙ্গে থেকে সেখানে বিভিন্ন পুরুষ মানুষকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত করে অশ্লিল ছবি ও ভিডিও করে হাতিয়ে নিতো অর্থ।
র্যাব -১ এর অধিনায় লে. কর্নেল মোশতাক আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, মিতু আক্তার গ্রেফতার ডাকাত দলের অন্যতম সদস্য মো. রুবেল ইসলামের পূর্বপরিচিত। রুবেলের মাধ্যমেই এই মিতু ডাকাতির কার্যক্রমের সাথে জড়িয়ে পরে। গ্রাহক সেজে সে ব্যাংকের ভিতর নজর রাখতো কারা ব্যাংক থেকে বড় অংকের টাকা তুলছে এবং তুলনামূলকভাবে সহজ টার্গেট কারা। এভাবে যাচাই-বাছাই করে ব্যাংকের ভেতর থেকেই মিতু টার্গেট মার্ক করত এবং টার্গেট নিশ্চিত করে দলের অন্যান্য সদস্যদের ফোন করে বা মেসেজ করে জানাত। পরবর্তীতে টার্গেটকৃত ব্যকিক্তদের ব্যাংক থেকে টাকাসহ বের হলে মিতু টাকার ব্যাগ থাকা ব্যক্তিকে টার্গেটেকে ফলো করে বাইরে আসতো এবং ইশারার মাধ্যমে বাইরে অপেক্ষায় থাকা ডাকাত দলের সদস্যকে দেখিয়ে দিত।
র্যাব-১ এর অধিনায় আরও জানান, মিতু আক্তার অত্যন্ত ধূর্ত। টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের কথাবার্তা মনোযোগ দিয়ে শুনতো এবং টার্গেটের রুট প্ল্যান বোঝার চেষ্টা করত। মূলত মিতুর কাজ ছিল ডাকাতের দলের বাকি সদস্যদের কাছে টার্গেটকে মার্ক করে দেয়া এবং টার্গেটের সম্পর্কে যত বেশি সম্ভব তথ্য সরবরাহ করা।
সময়ের আলো/জিকে