স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা বাংলাদেশ চাননি, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২১ বছর পর্যন্ত তাদের হাতেই বাংলাদেশ ছিলো। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভিক্ষুকের জাতির বদনাম ঘুচিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মর্যাদার সঙ্গে টিকে আছে।
রোববার (৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন মন্ত্রী। ওই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিনহাদুল হাসান রাফি। এতে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপ অটিজম বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ারুল কবির দিপু, প্রধান বক্তা ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল পিয়াস।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ছাত্রজীবন হলো প্রতিটি মানুষের পুরো জীবনের ফাউন্ডেশন। এটাকে যেভাবে তৈরি করবে, জীবনটাও সেভাবে সাজবে। ছাত্রলীগ হলো মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংগঠন। তাই ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তাহলে কেউ তোমাদের থামিয়ে রাখতে পারবে না।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করতে হবে। কেননা জননেত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্ব বর্তমানে সারাবিশ্ব এগিয়ে যাওয়ার মিশনে অনুস্মরণ করছে।
মন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগ আমার প্রাণের সংগঠন। মেধাবী শিক্ষার্থীরা সব সময় ছাত্রলীগকে বেছে নিয়েছে। ছাত্রলীগ করা ছেলে-মেয়েরা নিজেদের সুশিক্ষিত করে আজ বিভিন্ন সেক্টরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ছাত্রলীগ কখনো মাদকের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না, চাঁদাবাজি করতে পারে না। ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর জ্ঞানগরিমায় সম্পন্ন হতে হবে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে। অসৎপথ পরিহার করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি। কিন্তু সকলকে আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। কারো ওপর জুলুম নির্বাচন করা যাবে না, সব সময় মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষকে সম্মান দিতে হবে। ভালো কাজের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।
মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান শামীমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বিপ্লবের পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. কামাল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক দেওয়ান জসিম উদ্দিন প্রমুখ।
সম্মেলনে শেষে ফয়সাল মাহমুদ ফাহাদকে সভাপতি ও মেহেদী হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছর মেয়াদী কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই দিন দুপুরে জেলার লাকসাম উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
সময়ের আলো/আরআই