গাজীপুরে মাটির মটকায় মিলল ১৬টি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার

গাজীপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ ছায়াবীথি বোম্বাইবাড়ী এলাকায় একটি জমিতে ভবন নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে মাটির মটকায় পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় বের

2024-07-08T23:20:58+00:00
2024-07-08T23:20:58+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
গাজীপুরে মাটির মটকায় মিলল ১৬টি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুলাই, ২০২৪, ১১:২০ পিএম 
গাজীপুরে মাটির মটকায় মিলল ১৬টি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার
গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ ছায়াবীথি বোম্বাইবাড়ী এলাকায় একটি জমিতে ভবন নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে মাটির মটকায় পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় বের হয়েছে ১৬টি গ্রেনেড। সোমবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে এ গ্রেনেডের সন্ধান পায় নির্মাণ শ্রমিকরা। পরে খবর পেয়ে জমির মালিক এসে ৯৯৯ নাইনে ফোন দিলে মেট্রোপলিটন সদর থানার পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাগণ ও ঢাকা থেকে বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে গ্রেনেড গুলো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করেন। এ সময় বিস্ফোরণের শব্দে আশেপাশের এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। 

বোম ডিসপোজাল ইউনিট ১৯ সদস্যের একটি ডিমের নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার সিটিডিসি বোম ডিসপোজাল ইউনিটের টিম লিডার মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান। মাটির পাতিলের ভিতর পলিথিনে মোড়ানো ১৬টি তাজা গ্রেনেড উদ্ধারের পর বিকেল চারটার দিকে গ্রেনেড গুলো নিষ্ক্রিয়করণ শুরু হয়। এ সময় হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দিয়ে নিরাপদ স্থানে গ্রেনেড গুলো বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাস্থলে কাছে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ঢাকার বোম ডিসপোজাল ইউনিটের ১৯ জন সদস্য ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করার পর। গ্রেনেড গুলা নিষ্ক্রিয়করণের জন্য বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটায়। পরে ৪টা ৫মিনিটে, ৪টা ১৫মিনিটে, ৪টা ১৮ মিনিটে, ৪টা ২৩ মিনিটে, ৪টা ২৮মিনিটে, ৪টা ৪৫ মিনিটে, ৪টা ৫০মিনিটে এবং ৪টা ৫৫মিনিটে সব বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্রেনেড বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করেন। এ সময় ৯টি বিস্ফোরণের বিকট শব্দে ওই এলাকাসহ আশপাশের এলাকা প্রকম্পিত হয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাশের ভবনের বেশ কিছু জানালার থাই গ্লাস ফেটে যায়। এরআগে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী আবুল কাশেম বাড়ি নির্মাণ করার জন্য গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন জোরপুকুরপাড় দক্ষিণ ছায়াবীথি বোম্বাইবাড়ী এলাকায় সাড়ে তিন কাঠা জমি কিনেন। সম্প্রতি ওই বাউন্ডারি করা জমিতে ৬ তলা বাড়ি করার জন্য কাজ শুরু করেন। সকালে কয়েকজন শ্রমিক মাটি খুঁড়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে ৪-৫ ফিট মাটি গর্ত করার পর একটি মাটির পাতিল বেড়িয়ে আসে। কোদালের আঘাতে মাটির পাতিল ফেটে গেলে ভেতর হতে গ্রেনেড বের হয়ে আসলে জমির মালিকে খবর দেন নির্মাণ শ্রমিকরা।

বাড়ির মালিক আবুল কাশেম বলেন, সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ শুরু করে মাটি খনন করার সময় একটি মাটির পাতিলে কোদালের আঘাত লেগে শব্দ হয়। পরে নির্মাণ শ্রমিকরা ওই মাটির পাতিলের উপড়ের মাটি সরিয়ে গ্রেনেড গুলো দেখতে পায়। পরে তারা আতঙ্কিত হয়ে কাজ বন্ধ করে বিষয়টি জানান। পরে প্রথমেই ৯৯৯ ফোন দেই। পরে গাজীপুর সদর থানায় গিয়ে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল আসে।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর মেট্রো থানার ওসি সৈয়দ রাফিউলল করিম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় এগুলো পরিত্যক্ত গ্রেনেড। নিরাপত্তার জন্য এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে সীমানা ঘেরা জমির গেটে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরে বস্তুগুলো পরীক্ষা করার জন্য ঢাকায় বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (সিটিডিসি) বোম ডিসপোজাল ইনিটের টিম লিডার মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান জানান, সকালে খবর পাই মাটি খননের সময় বিস্ফোরক জাতীয় কিছু একটা পাওয়া গেছে। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে আমাদের পুরো টিম নিয়ে এসে দেখতে পাই একটি ভাঙ্গা মটকার ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো প্রচুর শক্তিশালী গ্রেনেট রয়েছে। এর মধ্যে মোট ১৬টি গ্রেনেট ছিল। যেগুলো হলো আরজেস গ্রেনেট। ঘটনাস্থলটি সম্পূর্ণ ঝুকি পূর্ণ ছিলো যে কারণে জঙই রোবোটের মাধ্যমে প্রতেকটা গ্রেনেট দেখার চেষ্টা করি পিনগুলো অক্ষত আছে কি না। পিন গুলো ঠিকমত থাকায় পরবর্তীতে সফলতার সাথে সব গুলো গ্রেনেট আলাদা করতে সক্ষম হই। যেহেতু এগুলো অনেক আগের তাই আলাদা করতেও অনেক সমস্যা হচ্ছিল। আমাদের টিমের দুজন সদস্য (বোমটেক) বোম স্যুট পড়ে আলাদা আলাদা ভাবে প্রত্যেকটি বিস্ফোরক নিষক্রিয় করতে সক্ষম হয়। 

তিনি আরও বলেন, আরজেস গ্রেনেট গুলো খুবই শক্তিশালী গ্রেনেট। এই গ্রেনেট গুলো কোন দেশে তৈরি তা এই মুর্হূতে বলা যাচ্ছে না। কারণ বিস্ফোরক গুলোর মধ্যে কোন ম্যানুফ্যাকচুরাল মার্ক পাওয়া যায়নি। এগুলো অনেক আগের গ্রেনেট। তবে এই ধরণের গ্রেনেট আমাদের দেশে ২১ আগষ্ট গ্রেনেট হামলার সময় ব্যাবহার করা হয়েছে। এগুলো আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়ে যাবো। বিস্ফোরক অধিদপ্তরেও পাঠানো হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানা যাবে কবে এবং কোন দেশে এগুলো তৈরি হয়েছে। কত দিন আগে এগুলো মাটিতে পুতে রাখা হয়েছে এবং কারা এগুলো মাটিতে পুতে রেখেছে তা তদন্তের আগে বলা যাচ্ছে না।

সময়ের আলো/আরআই



  বিষয়:   তাজা গ্রেনেড উদ্ধার-মাটির মটকা  গাজীপুর 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: