বাবা- মায়ের কবরের পাশেই চির নিন্দ্রায় শায়িত হলেন পাবনার কৃতিসন্তান বাংলা একাডেমির পুরুস্কার প্রাপ্ত, রাজনৈতিক সচেতন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের, দেশ বরেণ্য কবি মাকিদ হায়দার। পাবনা জেলা সদরের কেন্দ্রিয় কবরস্থান আরিফপুরে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে কবরস্থান সংলগ্ন মাঠে সকাল ৮ টায় তার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, ১০ জুলাই বুধবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ঢাকার উত্তরার নিজ বাসায় মাকিদ হায়দার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি উচ্চ ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে কিছুটা সুস্থ হলে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
রাজনীতি সচেতন কবি মাকিদ হায়দার স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মাকিদ হায়দারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রথমে তাঁর মরদেহ বাংলা একাডেমিতে নেওয়া হয়। পরে তার নিজ জেলা শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরে বুধবার রাত ১১ টার দিকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কিছু সময় রাখা হয়। পরে নিজ পৈত্রিক বাড়ি শহরের দোহার পাড়াতে নেয়া হয়। ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় তার জানাযার নামাজ ও পরে দাফন কাজ সম্পন্ন হয়।
মাকিদ হায়দারের জন্ম ১৯৪৭ সালে, পাবনার দোহারপাড়া গ্রামে। বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ কবি মাকিদ হায়দার লিখেছেন ‘রোদে ভিজে বাড়ি ফেরা’, ‘আপন আঁধারে একদিন’, ‘কফিনের লোকটা’ ও ‘পার্থ ও প্রতিম’-এর মতো কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া রয়েছে তাঁর গল্প ও প্রবন্ধের বই।
২০১৯ সালে কবিতায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান মাকিদ হায়দার। এ ছাড়া তিনি পেয়েছেন দেশের উল্লেখযোগ্য অনেক সাহিত্য পুরস্কার। তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাংলা ভাষা সাহিত্যে রেখেছেন বিশেষ অবদান।
মাকিদ হায়দারের ভাই রশীদ হায়দার, জিয়া হায়দার, দাউদ হায়দার, জাহিদ হায়দার, আবিদ হায়দার ও আরিফ হায়দার।
সময়ের আলো/এম