সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ, ছাত্রলীগের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী। এছাড়াও অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন দেড়শতাধিক। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায় নি। তবে পকেটে থাকা অস্পষ্ট একটি আইডি কার্ডের ফিতায় মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) ফিতা পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ‘কমপ্লিট শাটডাউনে’র অংশ হিসেবে সাভারে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয়া আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ছাত্রলীগের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয় বেশ কয়েকজন। গুলিবিদ্ধ আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী ছাড়াও দোকান কর্মচারী ও পথচারী রয়েছেন। দুপুরে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অভিমুখে অগ্রসর হলে বিভিন্ন পয়েন্টে পয়েন্টে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সাথে থেমে থেমে সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পাকিজা অতিক্রম করে সাভার বাজার বাসষ্ট্যান্ড ধরে ক্যাম্পাসের দিকে অগ্রসর হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মিদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের সংঘর্ষে চার শিক্ষার্থী, সাংবাদিক গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক আহত হবার ঘটনায় থমথমে গোটা ক্যাম্পাস।
সকাল থেকেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে মোবাইল ইন্টারনেট ছিলো বন্ধ। গতি কমিয়ে দেয়া হয় ব্রডব্যান্ড লাইনের।
দুপুরে পুলিশের বাধা পেয়ে শিক্ষার্থীরা সড়কের মধ্যে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের থেমে থেমে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সাভার বাজার বাসষ্ট্যান্ড। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেও পরিস্থিতি শান্ত করতে পারেনি। থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। এভাবে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে সাভারের শিমুলতলা, রেডিও কলোনী ও ব্যাংক কলোনী এলাকায়।
পৌনে তিনটার দিকে একে একে গুলিবিদ্ধদের নেয়া হয় সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে আহত শিক্ষার্থী, পথচারী ও উৎসক জনতার ভিড়ে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে দেখা যায় কর্তব্যরত চিকিৎসকদের।
বেলা পৌনে তিনটার দিকে একটি অটোরিকশায় করে গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থীকে এনাম মেডিকেল হাসপাতালে নেবার পর তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
তার পকেটে থাকা মানিব্যাগে সনাক্ত করার মতো তেমন কিছুই মেলেনি। তবে গলায় ঝুলে থাকা অস্পষ্ট একটি আইডি কার্ডে ফিতায় লেখা রয়েছে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মিজারুল রেহান পাভেল ও ডা. হাসান মাহবুব ওই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার বুকে অসংখ্য গুলির কারণেই মৃত্যু বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কেউ কোন মন্তব্য করতে চাননি।
সময়ের আলো/জেডআই