বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নদী সাতক্ষীরার ইছামতির বেড়িবাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে আবারও ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-১ এর আওতাধীন দেবহাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাতশালা বিশ্বাস পাড়া, ভাতশালা-কোমরপুর স্লুইসগেট, সুশীলগাতি, দেবাহাটা সদর থেকে বসন্তপুরগামী বেড়িবাঁধ ও নাংলা গাংআটি পাড়াসহ ইছামতি নদীর বেড়িবাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ছোট বড় ভাঙন দেখা দিয়েছ।
এছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের সোলপুর বিওপি ও শ্মশানঘাটের মাঝামাঝি স্থানে বেড়িবাঁধের প্রায় দেড়শ’ গজ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ১১ জুলাই থেকে দেখা দেয়া এ ভাঙন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে বেড়িবাঁধের কিছু কিছু অংশ নদী গর্ভে ধ্বসে পড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে বেড়িবাঁধের এসব অংশে ক্রমশ ফাটলের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। এতে করে যে কোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে আশেপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভাঙন কবলিত এলাকায় বসবাসকারীরা।
ইছামতি নদীর পাড়ে বসবাসকারী বাসিন্দারা জানান, ইতিপূর্বে পার্শ্ববর্তী সুশীলগতি, কোমরপুর ও নাংলা এলাকায় সীমান্তের ইছামতি নদীর ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে আশেপাশের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত ১০/১৫ বছরে ইছামতি নদীর ভাঙ্গনে দেবহাটা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে বাংলাদেশ হারিয়েছে তার ভূখণ্ড আর সীমান্ত বেড়েছে ভারতের। এছাড়া পাল্টিয়েছে দেবহাটার ম্যাপ।
এভাবে বারবার বেড়িবাঁধ ভাঙতে থাকলে ভিটেমাটি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে সীমান্তের বাসিন্দাদের। বেড়িবাঁধের এসব ভাঙন পয়েন্টে জরুরী ভিত্তিতে কংক্রিটের ব্লক, বালি ভর্তি বস্তা ডাম্পিংয়ের পাশাপাশি নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী বলেন, বাঁধ ভাঙ্গার আগে ভাঙ্গন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয় না। অথচ পাউবো কর্তৃপক্ষ বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলেই কেবল ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় তা মেরামতের কাজ শুরু করেন। ভাঙ্গনের আগে থেকে তারা তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না।
সাতক্ষীরা পাউবোর কিছু অসাধু কর্মকর্তার গাফিলতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে উপকূলের অধিকাংশ এলাকার বেড়িবাঁধের বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। সময়মতও ভাঙন পয়েন্ট গুলো মেরামত না করায় বর্ষা মৌসুমে অথবা কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সামান্য জলোচ্ছ্বাসের এই দুর্বল বেড়িবাঁধগুলো সহজেই ভেঙে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয় বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
কালীগঞ্জের ভাড়াশিমলা ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হোসেন নাঈম বলেন, ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। এতে করে যে কোন সময় বাঁধ ভেঙ্গে তার ইউনিয়নের ৭/৮টি গ্রামসহ হাজার হাজার বিঘার ফসলি জমি ও মাছের ঘের ভেসে যেতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ- ১ এর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী শুভেন্দু বিশ্বাস বলেন, আপদকালীন কাজ হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে এসব ভাঙন পয়েন্টগুলো মেরামত করা হবে।
দেবাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আল ফেরদৌস আলফা বলেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে সীমান্তের ইছামতি নদীর বেড়িবাঁধের বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহিত করে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন কবলিত এলাকার মেরামতের কাজ করা হবে।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে শিগগিরই সীমান্তের ইছামতি নদীর ভাঙন কবলিত বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।
সময়ের আলো/আরআই