বাদশা-বাবুর তৎপরতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় ১৪ দলীয় নেতাকর্মীরা

রাজশাহী ব্যুরো

সারাদেশ

রাজশাহীতে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান খানকে (৫৫) থানা থেকে ছাড়াতে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি ফজলে

2024-07-28T07:41:12+00:00
2024-07-28T07:41:12+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বাদশা-বাবুর তৎপরতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় ১৪ দলীয় নেতাকর্মীরা
সাবেক শিবির নেতাকে ছাড়াতে আরএমপির কমিশনারকে ফোন
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: রোববার, ২৮ জুলাই, ২০২৪, ৭:৪১ এএম 
বাদশা-বাবুর তৎপরতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় ১৪ দলীয় নেতাকর্মীরা
রাজশাহীতে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান খানকে (৫৫) থানা থেকে ছাড়াতে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি ফজলে হোসেন বাদশা এবং রাসিক কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা সরিফুল ইসলাম বাবুর তৎপরতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় ১৪ দল ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার নুরুজ্জামান রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় শাখার ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি, বর্তমানে জামায়াত নেতা ও ১৯৮২ সালে জামায়াতে ইসলামীর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মহানগরীর সাহেববাজার এলাকার মসজিদ মিশন একাডেমির (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) অধ্যক্ষ। তাকে ছাড়ানোর সহায়তার জন্য রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনারকে একাধিকবার ফোন করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সদর আসনের সাবেক এমপি ফজলে হোসেন বাদশা। আরএমপির পুলিশ কমিশনারকে তিনি ছয়বার ফোন করলেও আসামিকে না ছেড়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সূত্রে আরও জানা যায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর হড়গ্রাম মুন্সিপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সাবেক এই শিবির নেতাকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার করে কাশিয়াডাঙ্গা থানা-পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে ছাড়ানোর জন্য দিনভর দৌড়ঝাঁপ করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং মসজিদ মিশন একাডেমির গভর্নিং বডির সভাপতি সরিফুল ইসলাম বাবু। গ্রেফতারের খবরে নুরুজ্জামানকে ছাড়াতে তিনি ছুটে যান রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ও রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদের কাছে। এরপর ফজলে হোসেন বাদশা পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে অন্তত ছয়বার ফোন করেন। কাউন্সিলর বাবু পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতে ব্যর্থ হলে বুধবার বেলা ৩টায় পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তিনি (বাদশা) সরিফুল ইসলাম বাবুকে সময় নিয়ে দেন। ফজলে হোসেন বাদশা বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ছাত্রজীবনে শিবিরের রাবির এই সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান খান জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনও করেন। এখন তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেফতার করে কাশিয়াডাঙ্গা থানা-পুলিশ। এরপর বুধবার (২৪ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি নগরীর সাহেববাজার এলাকার মসজিদ মিশন একাডেমির (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) অধ্যক্ষ। ১৯৮২ সালে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেশিরভাগই দলীয় নেতাকর্মী। এই প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১২ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা আছে। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মাঝে মধ্যেই গ্রেফতার হন।

পুলিশের তথ্যমতে, গত বছরের ১৭ নভেম্বর কাশিয়াডাঙ্গা থানায় পুলিশের দায়ের করা একটি নাশকতার মামলায় নুরুজ্জামানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলার বাদী উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলী মিয়া। এজাহারে উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর বিএনপি ও জামায়াতের অবরোধ কর্মসূচি ছিল। এ জন্য বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা সেদিন রাতে নগরীর সায়েরগাছা এলাকায় রাস্তায় অবস্থান নিয়ে মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছিলেন। খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে তিনি সেখানে যান। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ওই এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের অফিস লক্ষ্য করে দুটি ককটেল ছুড়ে মারে। একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়ে অফিসের জানালার কাচ ভেঙে যায়। অপর একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।

এদিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানা থেকে নুরুজ্জামানকে আদালতে পাঠানোর সময় পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে এই আসামি মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান খানকে ছাড়াতে ফোন করার বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, অধ্যক্ষ কোন মতাদর্শের মানুষ তা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু ভালো বলতে পারবেন। আমি শুধু তাকে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেছিলাম। এ সময় কমিশনারকে বলেছিলাম, বিষয়গুলো যেন তার (বাবুর) কাছ থেকে শোনা হয়। এ জন্য আমি বাবুকে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি সময় নিয়ে দিয়েছিলাম।
বাদশা দাবি করেন, সম্প্রতি নগরীর একটি মাদরাসার অধ্যক্ষকে আটকের পর পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। কেন তাকে ছাড়া হয়েছে সেটা আপনারা খুঁজে দেখেন বলে প্রশ্ন তুলে বাদশা বলেন, মসজিদ মিশন একাডেমির অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান খান জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করেন কি না তা আমি জানি না।

প্রসঙ্গত, সংসদ সদস্য থাকাকালে ২০২০ সালের ১১ আগস্ট ফজলে হোসেন বাদশা এক সংবাদ সম্মেলন করে মসজিদ মিশন একাডেমির নানা অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি রাজশাহী মহানগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হলেও দীর্ঘদিন থেকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও জঙ্গিবাদীরা একে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এই প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী জঙ্গি তৎপরতার কারণে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলাও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ১১ কোটি টাকা লুটপাট করে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়েছে বলে ওই সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

এই বিষয়ে রাসিক কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু বলেন, আমি এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সভাপতি। আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে প্রকৃত সত্য কথা জানাতে কমিশনারের কাছে গিয়েছিলাম। প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১২ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নাশকতার মামলা থাকলেও অধ্যক্ষ নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। একটা পুরোনো মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ জন্য আমি বাদশা ভাই (ফজলে হোসেন বাদশা) ও আসাদ ভাইয়ের (আসাদুজ্জামান আসাদ) কাছে গিয়েছিলাম। বাদশা ভাই পুলিশ কমিশনারকে ফোন করে দেখা করার জন্য আমাকে সময় নিয়ে দিয়েছিলেন। আসাদ ভাই ফোন করতে চেয়েছিলেন। ৩টার সময় আমার সঙ্গে আসাদ ভাইয়েরও পুলিশ কমিশনারের কাছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঢাকা যাওয়ার শিডিউল থাকায় তিনি যেতে পারেননি।

সরিফুল ইসলাম বাবু আরও বলেন, দেখা করলে পুলিশ কমিশনার আমাকে জানিয়েছেন যে অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান খানের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন আছে। কিন্তু আমি তার দুটি ব্যাংক হিসাব দেখে এমন কিছু পাইনি। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে আমি তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম। কারণ তিনি নানাভাবে আমাদের সহযোগিতা করে থাকেন।’

জামায়াত নেতার জন্য পুলিশ কমিশনারকে ফোন করার বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘আমার কাছে কয়েকজন এসেছিলেন যেন ফোন করে তাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করি। কিন্তু আমি ফোন করিনি। ফোন করেছি এই প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না।’

এই বিষয়ে আরএমপি কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, নুরুজ্জামান খান জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। আরও তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে এখন আর কোনো মন্তব্য করব না।’

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: