কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, নির্বিচার ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ও হত্যার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। তারা বলছে, এসব হত্যাকাণ্ডের দায় সরকার এড়াতে পারে না। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানির প্রতিবাদ এবং সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বুধবার (৩১ জুলাই) উদীচী গাইবান্ধা আয়োজিত সাংস্কৃতিক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে জেলা শহরের ডিবি রোডে গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (গানাসাস) সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দমন-পীড়ন, গুলি ও হত্যার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় নাশকতার নিন্দা জানিয়ে এ আন্দোলনে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ও নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশের দাবি করে উদীচী। সেই সঙ্গে প্রাণহানির ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবি জানিয়ে সমাবেশে বক্তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে অনাকাঙ্ক্ষিত বলপ্রয়োগের যে ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে, তা কখনোই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কাম্য নয়। একই সঙ্গে আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় যে নজিরবিহীন নাশকতা চালানো হয়েছে, তা-ও নিন্দনীয়।
সাংস্কৃতিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উদীচী গাইবান্ধা জেলা সংসদের সভাপতি অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম। বক্তব্য দেন উদীচী গাইবান্ধা জেলা সংসদের উপদেষ্টা ওয়াজিউর রহমান রাফেল, সংস্কৃতি কর্মী শিরিন আকতার, সাংবাদিক আফরোজা লুনা প্রমুখ।
উদীচীর দাবি, আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রত্যেক মানুষের সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে রাষ্ট্রকে। আন্দোলন ঘিরে নাশকতার হাত থেকে রাষ্ট্রীয় স্থাপনা রক্ষায় যারা ব্যর্থ হয়েছেন, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের যে খেলা শুরু হয়েছে, তা বন্ধ করতে হবে। দমন-পীড়ন ও হত্যা-নির্যাতন বন্ধ করে অবিলম্বে দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
সাংস্কৃতিক সমাবেশে প্রতিবাদী গান-কবিতা পরিবেশন করেন, চুনি ইসলাম, সুহানা রহমান আঁচল, পরোমা প্রমুখ।
সময়ের আলো/আরআই