বগুড়ার কাহালুতে ঘাতক স্বামী তার স্ত্রীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে থানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) গভীর রাতে বগুড়ার কাহালু উপজেলার নারহট্র ইউনিয়নের নারহট্র সরদার পাড়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, লোহাজাল গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে হাতেম আলী (৩৫) এর সাথে নারহট্র সরদার পাড়া পুকুর পাড় এলাকার শাহের আলীর কন্যা মোছা. শান্তনা খাতুন (৩০) এর গত এক যুগ পূর্বে বিয়ে হয়। সংসার কালে তাদের ২টি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। অভাব অনাটনের সংসারে তাদের পরিবারে ঝগড়া ঝাটি লেগেই থাকতো। হাতেম আলী সরদার পাড়া পুকুর পাড়ে জনৈক মৎস্য চাষির পুকুরে পাহারাদারের কাজ করতো। এবং ঐ পুকুর পাড়েই পরিবার নিয়ে বসবাস করতো। এক পর্যায়ে হাতেম আলী ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়লে বাড়ি থেকে বের হয়ে পাবনা জেলায় গিয়ে শ্রমিকের কাজ নেন। এদিকে পাওনাদাররা তার বাড়িতে এসে তার স্ত্রীকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। স্ত্রী শান্তনা তার স্বামীকে টাকার কথা জানালে ১ আগস্ট ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার হাতেম আলী পাবনা থেকে বাড়ি এসে তার স্ত্রী শান্তনার সাথে ঝগড়া বিবাদ লিপ্ত হলে এক পর্যায়ে ঐ রাতের কোন এক সময় স্ত্রীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। এসময় তার ২ সন্তান তাদের নানার ঘরে অবস্থান করছিলো।
স্ত্রীকে হত্যার পর তার বড় ছেলেকে ডেকে ঘরের চাবি তার হাতে দিয়ে ঘাতক হাতেম আলী ভোরে কাহালু থানায় এসে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। সংবাদ পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শান্তনার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে নিহত শান্তনার বাবা শাহেব আলী বাদী হয়ে হাতেম আলীকে আসামি করে ঐ দিনেই কাহালু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কাহালু থানা অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম রেজা জানান, যেহেতু আসামি নিজেই থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। আসামিকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/আরআই