বগুড়ার কাহালুতে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) আওতাধীন বেশ কয়েকটি রাস্তার সংস্কার, পাকাকরণ ও প্রশস্তকরণের কাজ থমকে থাকায় গ্রামীণ জনপদের মানুষের চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যাতায়াতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এসব জনপদের মানুষ। এর জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, এসব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারদের বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও ঠিকাদাররা কাজের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। মন্থরগতিতে কাজ চলছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে এসব প্রকল্পের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারদের বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মাসুদ হাসান রঞ্জু বলেন, এই রাস্তাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় বিগত দুই দশক আগে কার্পেটিং করে পাকাকরণ করা হলেও সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি নষ্ট হয়ে জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তাটির সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। এই রাস্তা দিয়ে ভারী কোনো যানবাহন চলাচল না করলেও প্রতিদিন ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানে নন্দীগ্রাম, কাহালু, দুপচাঁচিয়া ও তালোড়ার বহু মানুষ বিভিন্ন কাজে কাহালু ও নন্দীগ্রামে যাতায়াত করেন। রাস্তাটির ৯০ শতাংশ স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় জনসাধারণ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মাসুদ হাসান রঞ্জু আরও বলেন, গ্রামীণ জনপদের জীবনযাত্রা বদলে দিতে ও গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করতে বর্তমান সরকার রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করলেও কাহালু উপজেলায় প্রায় ১৭ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ থমকে আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাহালু ইউনিয়নের দুর্গাপুর থেকে পাইকপাড়া হয়ে হাটুরপাড়া পর্যন্ত অংশের ৯৫৫ মিটার রাস্তার কাজের জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়ার পরও মনির এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কাজ ফেলে রেখেছে। রাস্তাটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
এ ছাড়া কাহালু ইউপি হেডকোয়ার্টার থেকে নন্দীগ্রাম হয়ে ভাটগ্রাম ও কাহালু অংশে ১৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার রাস্তার দুই ধার প্রশস্তকরণের কাজও চলেছে ঢিমেতালে। এই প্রকল্পের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এটি ২০২১-২২ অর্থবছরে বরাদ্দ পায়। দায়িত্ব পাওয়ার পর ঠিকাদার খায়রুল কবির রানা কাজ শুরু করলেও নেই কোনো অগ্রগতি। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার দুই ধার প্রশস্তকরণের জন্য মাটি খুঁড়ে রেখেছে এবং কিছু অংশে ইট গেঁথে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ চলছে খুবই মন্থরগতিতে।
এ ছাড়া দুই কিলোমিটার কলমা রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও এই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন এখনও কাজ শেষ করতে পারেনি। কাজের সময়সীমা চলতি বছরের ১৫ জুলাই পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। এ ছাড়া বীরকেদার ইউনিয়নের অবিলম্ব গ্রামে কাজিপাড়া-কালাই-কর্নিপাড়া সংযোগ সড়ক এবং অবিলম্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৪৫০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ থমকে আছে। এই রাস্তাটির জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরে অর্থ বরাদ্দ হলেও রাশেদ কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাস্তায় শুধু ইটের খোয়া বিছিয়েই যেন দায় সেরেছে। কাজ ফেলে রাখায় চলাচলে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে স্থানীয়দের। একইভাবে জামগ্রামের সোনারপাড়া-লহরাপাড়া রাস্তার পাকাকরণের কাজও থমকে আছে। ২ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি ২০২১-২২ অর্থবছরে বরাদ্দ পেলেও ১ হাজার ৩০০ মিটার রাস্তাটির কাজ সম্পন্ন না করে ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস সুমন এন্টারপ্রাইজ।
এদিকে সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় কাহালু উপজেলা সদরের চারমাথা থেকে খাড়িয়া নিসিন্দারা ধানপূজা নন্দীগ্রামের নিমাইদীঘি চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তা, তালোড়া থেকে ধলাহার হরিপুর ভায়া নিমাইদীঘি চৌরাস্তার শিতলাই পর্যন্ত রাস্তা দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় জনসাধারণের চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার বেশিরভাগ স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়া ও পাকা না হওয়ায় জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংস্কারের অভাবে রাস্তাগুলোর এখন বেহাল দশা।
সময়ের আলো/আরএস/
`