চট্টগ্রাম নগরীর ১৬ থানার সবকটিতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১০ আগস্ট) থেকে এসব থানার মধ্যে বেশিরভাগের কার্যক্রম চলে সীমিত পরিসরে। শুধু একটি থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে ভবন ছাড়া। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নগরীর পতেঙ্গা থানার কার্যক্রম চালাতে ভবন খোঁজা হচ্ছে। চালু হওয়া থানাগুলোতে নেয়া হয়েছে সাধারণ ডায়েরি। সেবা প্রার্থীদের নানা অভিযোগও গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখনো থানার বাইরে অভিযান চালানোর কাজ শুরু হয়নি। প্রতিটি থানায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হতে আরো সময় লাগতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অপরদিকে নগরীর বাইরে জেলার ১৭ থানার মধ্যে রাউজান ও সন্দ্বীপ ছাড়া ১৫ থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে কাজ চলছে সীমিত পরিসরে। থানার বাইরে পুলিশের অভিযান বা ওয়ারেন্ট তামিল করার কাজ এখনো শুরু হয়নি। জেলার থানাগুলোতেও সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে ১১ দফা দাবিতে জেলার পুলিশ লাইনগুলোতে কনস্টেবল পর্যায়ের কর্মীদের আন্দোলন অব্যাহত আছে। আন্দোলন কর্মসূচিতে থানার কার্যক্রমে যুক্ত কোন কনস্টেবল পর্যায়ে কেউ নেই। এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর সার্কিট হাউসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের সাথে মতবিনিময় করেছেন জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ছাত্রদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া শনিবার সময়ের আলোকে বলেন, নগরীর প্রায় সব থানায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পুলিশের সদস্যরা সীমিত পরিসরে কাজে যোগ দিয়েছেন। একটি থানার কাজ চলেছে থানার বাইরে।
পতেঙ্গা থানা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে বসে দায়িত্ব পালন করার মতো অবস্থা নেই। তাই এই থানার জন্য ভবন খোঁজা হচ্ছে। থানার পাশাপাশি থানার অধীনে পুলিশ ফাঁড়ির কাজও চলছে।
থানায় কি ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে এ প্রশ্নে তিনি বলেন- অভিযোগ, সাধারণ ডায়েরি এন্ট্রি করাসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে পুলিশি কাজে বাইরে অভিযানে যাবে।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ সময়ের আলোকে বলেন, জেলার ১৭ থানার মধ্যে ১৫টির কার্যক্রম চালু হয়েছে। সীমিত পরিসরে চললেও থানায় আসা লোকজনকে সেবা দেয়া হচ্ছে। দুটি থানার মধ্যে সন্দ্বীপ ও রাউজান থানার কার্যক্রম এখনো চালু করা যায়নি। দু’একদিনের মধ্যে দুই থানার কার্যক্রম চালু করতে পারব বলে আশা করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরীর আগ্রাবাদ, হালিশহর, খুলশী, ষোলশহর, চকবাজার, টেরিবাজার, নন্দনকানন, পাথরঘাটা সহ বিভিন্ন স্থানে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ঘটনা নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) গভীর রাতে নগরীর কাজির দেউড়ি ও নন্দনকানন এলাকায় ডাকাতির চেষ্টা করা হয়। পরে এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে পাঁচ ডাকাতকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে সেনাবাহিনীর কাছে সোপর্দ করেছে। তবে শুক্রবার রাতে বড় ধরনের ডাকাতি কিংবা চুরির ঘটনা না ঘটলেও মানুষের আতঙ্ক কাটেনি।
এদিকে শনিবার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কোতোয়ালি থানা পরিস্কারের কাজ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা পরিচ্ছন্ন কাজে বিপুল শিক্ষার্থী অংশ নেন। অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের মিছিল প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট মোড়ে বিক্ষোভ করছেন। শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফির নেতৃত্বে সেখানে অবস্থান নিয়ে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।
পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানও দেয়া হয়। প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সব বিচারপতি পদত্যাগ না করলে চলমান আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের নেতা খান তালাত মাহমুদ রাফি। পরে পদত্যাগের ঘোষণা শোনার পর মিছিল শেষ করেন শিক্ষার্থীরা।
মতবিনিময় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ থানাগুলোতে পুলিশের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সহযোগিতা কামনা করেছেন জেলা প্রশাসন। শনিবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সাথে মতবিনিময়কালে নানা বিষয় আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে জেলা প্রশাসক বলেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে থানাগুলোতে পুলিশের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে হবে।
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও ছাত্রদের সহযোগিতা দরকার। উত্তরে ছাত্র প্রতিনিধিরা বলেন, আমরা পুলিশের কার্যক্রমসহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সহযোগিতা করব। পাশাপাশি ছাত্রদের যারা গুলি করেছে তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
সময়ের আলো/জিকে