পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটে গুরুত্বর আহত হয়ে চোখ হারাতে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া কাহালুর দরিদ্র লিটন মিয়া (২১)। উন্নত চিকিৎসা অভাবে সে তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশংকাজনক।
লিটন মিয়া বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের আড়োলা উত্তর পাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. আব্দুস সোবহান আকন্দের ছেলে। লিটন মিয়ার ৫ বছর বয়সে তার মা মারা যান। তারা দু’ভাই বোন। ঠেংগামারা টেকনিক্যাল ইনিস্টিটিউট হতে কম্পিউটার সাইন্সে ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেছে সে।
জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট বগুড়া সাতমাথা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের ডাকা অন্দোলনে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে লিটন মিয়া অংশ নেয়। আন্দোলন চলাকালে ঐ দিন সন্ধ্যার দিকে পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও গুলি ছোঁড়ে। এসময় লিটনের শরীরে কয়েকটি রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়। সাহসী লিটন জীবনের মায়া ত্যাগ করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। এসময় পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটটি লিটনের ডান চোখে এসে লাগে। এতে লিটন গুরুত্বর আহত হন। পরে শিক্ষার্থীরা মুমূর্ষু অবস্থায় লিটনকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে দেয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য লিটনকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষু ইনিস্টিটিউতে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, চোখের ভিতরে এখনো ছোঁড়া গুলির কিছু অংশ রয়েছে। চোখের ভিতরে ক্ষত হওয়ায় এই মুহূর্তে অপারেশন করা সম্ভব নয়। ২০-২৫ দিন পরে চোখের ক্ষত অংশের কিছুটা উন্নতি হলে অপারেশন করা সম্ভব হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
লিটন মিয়ার উন্নত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার চিকিৎসার জন্য লিটন মিয়া সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/আরআই