রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন কয়েদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সকাল থেকে কারাগারের ভেতরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। জুম্মার নামাজের আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিয়ন্ত্রণে আনতে কারারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন। এরপর সেনাবাহিনী অভিযানে নামে। এসময়
রংপুরের জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কারাগারের ভেতরে অবস্থান করে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত বলেন, সকাল সোয়া ৮টার পর কারাগারের ভেতরের গাছ থেকে আমড়া পেড়ে খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজন কয়েদির মধ্যে ঝগড়া বাধে। এই দুই কয়েদি হলেন বাহার ও রফিকুল। বিবাদের একপর্যায়ে রফিকুল বাহারকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। কারাগারের নার্স এসে বাহারের শরীরের পালস পাচ্ছিলেন না। তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক বাহারকে মৃত ঘোষণা করেন।
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে মেডিকেল মোড়ে অবস্থানরত স্থানীয় মানুষ জানান , ‘সকাল থেকে কারাগারের ভেতর থেকে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেয়েছি। এ সময় মানুষজন ছুটোছুটি করছিল। রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে চলাচলকারী গাড়িগুলোকে থামিয়ে দেওয়া হয়। সবার মধ্যে একটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।’
জুম্মার নামাজের আগে কারাগারের ভেতর থেকে কয়েদিদের স্লোগান শোনা যাচ্ছিল।
গোলাগুলির বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান সময়ের আলোকে বলেন, কয়েদির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারাগারের ভেতরের কয়েদিরা প্রধান ফটক ধাক্কাধাক্কি করার চেষ্টা করলে কারারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে ছুটে আসেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্য ঘটনাস্থলে আছেন। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কারাগারের নিরাপত্তারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কারা কর্তৃপক্ষ তখন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তা চায়। তারা এসেছেন। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় এরই মধ্যে দুই কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সন্ধ্যার মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে রাতে এ খবর লেখা পর্যন্ত তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/জিকে