বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী নদী ইছামতির সাতক্ষীরার দেবহাটার ভাতশালা এলাকায় বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধের মাত্র কয়েক ফুট বাকি আছে। এলাকাবাসী যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে গোটা এলাকা প্লাবিত হওয়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দেবহাটার ইছামতি নদীর ভাতশালার বিশ্বাস বাড়ি এলাকার বেড়িবাঁধটি বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত ভাঙতে ভাঙতে বেড়িবাঁধের এক-তৃতীংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এরআগে কয়েকবার সংস্কার কাজে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা কাজে আসেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে মুহূর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হওয়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্লাবিত হলে লোনা পানি ঢুকে বাড়িঘরসহ হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল ও মৎস্য ঘের ভেসে যাওয়াসহ শত শত পরিবার পানিবন্দী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। বর্তমানে উক্ত এলাকার মানুষের দিন কাটছে আতঙ্কে। তবে স্থানীয়রা নদীর মূল বেড়ি ছিদ্র করে পানি উত্তোলন ও নদীতে ঠেলা জাল নদী ভাঙনের প্রধান কারণ হিসাবে দায়ী করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় এবাদুল ইসলাম জানায়, ভাতশালা বিশ্বাস বাড়ি সংলগ্ন বেড়িবাঁধটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। কয়েকমাস আগে বেড়িবাঁধের ভাঙন প্রতিরোধের জন্য সরকারি ভাবে বালুর বস্তা স্থাপন করার কথা থাকলেও তা সঠিক ভাবে সম্পন্ন হয়নি। আমরা ভয়ে আছি জোয়ারের পানির চাপে যদি বাঁধ ভেঙে যায় আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো। আমাদের ক্ষতির শেষ থাকবে না।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল জানান, ভাতশালা এলাকায় নদী ভাঙন চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশল ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দীন শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত কাজের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, এই বাঁধটি আমরা বার বার সংস্কার করে রাখতে পারছি না। এখানে স্থায়ী বাঁধ দেওয়ার বিকল্প নেই। আপাতত পাইলিং করে বস্তা ও মাটি ভরাট দিয়ে কোন রকম বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু করা হবে।
সময়ের আলো/আরআই