নওগাঁর রানীনগর উপজেলার কুজাইল হাটে সরকারি দুই তলা পল্লী মার্কেট ভবন নির্মাণ করতে না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রভাবশালী কয়েকজন দখলদারদের বাধার মুখে ভবন নির্মাণের নির্ধারিত স্থান আজও বুঝে পায়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে নির্মাণকাজ শুরু করতে পারেননি ঠিকাদার। এতে করে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারি গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাটের জায়গায় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে তুলেছে বহু স্থাপনা। মূলত সেসব স্থাপনা রক্ষার জন্যই নির্ধারিত স্থানে সরকারি ভবন নির্মাণ করতে না দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন তারা। প্রভাব খাটিয়ে বাধার বলয় গড়ে তুলেছেন প্রভাবশালীরা।
এ বিষয়ে রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাইমেনা শারমীন বলেন, সরকারি প্রকল্পের ভবন নির্মাণের নির্ধারিত স্থান থেকে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য দখলে থাকা ব্যবসায়ীদের নোটিস প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু তারা আজও জায়গা ছেড়ে দেননি। আমরা নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
জানতে চাইলে রানীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, আমরা কাজটি শুরু করার চেষ্টা করছি। কিন্তু ওই বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর বাধার কারণে ঠিকাদারকে এখনও নির্ধারিত স্থান বুঝিয়ে দিতে পারিনি। বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার ইমরুল কায়েস ইমন বলেন, বেশ কয়েক মাস আগে আমরা নির্মাণকাজটি পেয়েছি। কিন্তু স্থান নিয়ে জটিলতার কারণে আজও কাজ শুরু করতে পারিনি। এ জন্য এলজিইডি অফিসে দুই দফায় আবেদন করেছি। তারা সীমানা বুঝিয়ে দিলে আমরা কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ে শেষ করার চেষ্টা করব।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রানীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কুজাইল হাটে চার তলা ফাউন্ডেশনে দুই তলা পল্লী মার্কেট ভবন নির্মাণ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় আগেই যার চুক্তিমূল্য ধরা হয় ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। কাজটি পায় মেসার্স সাহারা কনস্ট্রাকশন-ইএসবি নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ভবনের নির্মাণকাজ চলতি বছরের ১৯ মে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু স্থানীয় কতিপয় কয়েকজন দখলদারদের বাধার মুখে ভবন নির্মাণ কাজের নির্ধারিত স্থান আজ পর্যন্ত ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাই আজও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে বাধ্য হয়ে ঠিকাদার কাজটি দ্রুত নির্মাণ করতে সাইট বুঝে নেওয়ার জন্য দুই দফায় স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু আজও কাটেনি সেই জটিলতা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাজটির কার্যাদেশ হওয়ার আগে উপজেলা প্রকৌশলী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে হাটের স্থান নির্ধারণে কুজাইল বাজারে যান। সেখানে বাজার কমিটির মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে পারঘাটি যাওয়ার রাস্তা বরাবর পূর্ব-পশ্চিম লম্বায় ভবন নির্মাণের জন্য স্থান নির্বাচিত হয়। এরপর থেকে কয়েকজন দখলদার ভবন নির্মাণের স্থানে বাধা দিতে শুরু করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তি হাটের জায়গা দখলে নিয়ে কেউ গোডাউন তৈরি করেছে, আবার কেউ বড় বড় দোকানঘর নির্মাণ করে রেখেছে। তাদের এসব স্থাপনা যেন ভাঙা না যায় এবং নিজেদের স্বার্থে উন্নয়নমূলক এই সরকারি ভবন নির্মাণে বাধা দিচ্ছেন তারা। স্থানীয়রা বলছেন, তাদের বাধার জন্য আমাদের এলাকা উন্নয়ন বঞ্চিত হতে যাচ্ছে। দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে কুজাইল বাজারে পল্লী মার্কেট ভবন নির্মাণ করার দাবি আমাদের।
সময়ের আলো/আরএস/