ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত সাড়ে ১১টা। মন্দিরে পূজা দেখে ফিরছিলেন নিরাঞ্জন সরকার। রাস্তায় দেখেন একটা মোবাইল ফোন পড়ে আছে। দিশাবিশা না পেয়ে তিনি সেটা তুলে দেন ভাগনের হাতে। সকালে প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া হয় ফোনটি।
গত শুক্রবার (১১ অক্টোবর) ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা গ্রামে। নিরাঞ্জনের বাড়ি নওগাঁ সদরের ধোপাইপুর গ্রামে। পেশায় কৃষক। তিনি ভাগনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
নিরাঞ্জন সরকার জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তার দুলাভাই মারা যান। দুলাভাইয়ের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ভাবিচা এসেছিলেন। শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান শেষে শুক্রবার রাতে গ্রামের মন্দিরে প্রতিমা দেখতে গিয়েছিলন। ফেরার সময় রাস্তায় একটা টাচ মোবাইল পড়ে থাকতে দেখেন। হাতে নিয়ে দেখেন মোবাইলটা চালু অবস্থায় আছে। তখন তিনি সেটা এনে ভাগনের হাতে দেন।
নিরাঞ্জনের ভাগনে শিক্ষক সবুজ সরকার জানান, রাত সাড়ে ১১টার সময় মামা আমাকে একটা ফোন দিয়ে বলেন যে, এটা তিনি রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছেন। আমি ফোনটা নিয়ে নিজের কাছে রাখি। রাত একটায় এর মালিক কল দিলে আমি তাদেরকে সকালে আমার বাড়িতে এসে মোবাইলটি নিয়ে যেতে বলি। সকালে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেই।
ফোনের মালিক প্রদীপ রবিদাস। বাড়ি উপজেলার রামাপাড়া গ্রামে। তিনি জানান, আমরা বন্ধুরা মিলে শুক্রবারে পিকআপ ভাড়া করে ঘুরতে গেছিলাম। পথে কোন এক সময় মোবাইলটি পকেট থেকে পড়ে যায়। ভিভো ওয়াই-২৭ মডেলের ফোনটি ১২ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলেন।
ফোন ফিরে পেয়ে তিনি জানান, এখন একটা বাটন ফোন হারিয়ে গেলেও ফেরত পাওয়া যায় না। আমি ধারণা করেছিলাম আমার হারানো ফোনও আর ফিরে পাব না। তিনি নিরাঞ্জনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ফোন ফিরিয়ে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন ভাবিচা ইউপির সাবেক সদস্য তুশিত কুমার সরকার। তিনি জানালেন, কুড়িয়ে পাওয়া মোবাইল ফিরিয়ে দিয়ে নিরাঞ্জন সরকার সততার পরিচয় দিলেন। সমাজে এই রকম মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকুক। নিরাঞ্জনকে সাধুবাদ জানাই।
সময়ের আলো/আরআই