ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় পৌর শহরসহ প্লাবিত হয় ১২টি ইউনিয়ন। বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে প্রকোপ বেড়েছে জ্বর, সর্দি-কাশি, চর্মরোগ, ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের। কালো বর্ণ ধারণ করা পচা পানি গায়ে লাগলেই চুলকানি দেখা দিচ্ছে। অনেক মানুষই এই পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে পায়ে ক্ষত, হাতে খোসপাঁচড়া দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি ঘরে ঘরে জ্বর ও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিনিয়তই বাড়ছে রোগীর ভিড়।
উপজেলায় বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েন কয়েক লাখ মানুষ, পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, আমন ধান, সবজি বাগানসহ শত শত মাছের ঘের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পোলট্রি খামারিরা। এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বন্যা-পরবর্তী সময়ে দেখা দিচ্ছে ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটব্যথা, জ্বরসহ নানা চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে বানভাসিরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীর ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছে। তাদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি। সবজি বাগান ও আমন ধানের ক্ষেত পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। হাঁস-মুরগি এমনকি বিল ও হাওরের মাছ মরে ভেসে উঠছে। বন্যার পানির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন পোলট্রি খামারের বর্জ্য, ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষেত-খামারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। এদিকে গবাদি পশুরু খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, আমন ধানের জমি নষ্ট হয়ে ১৩৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে কৃষকের। আমরা চেষ্টা করব সরকারি পুনর্বাসন দিয়ে ক্ষতিটা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য। সামনের মৌসুমে সরিষার পাশাপাশি অন্যান্য ফসল আবাদের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া সবজি চাষিদের জন্য আগাম জাতের বীজ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তা ডা. প্রাণেশ চন্দ্র পণ্ডিত বলেন, হালুয়াঘাট হাসপাতালে ডায়রিয়ার রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া পরির্বতনের ঠান্ডা জ্বরসহ অন্যান্য রোগের রোগীরাও আসছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরশাদুল আহমেদ বলেন, কৃষি কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আমি কথা বলেছি। হাঁস-মুরগি, গরু ও ছাগল যেন আক্রান্ত না হয় সে জন্য ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেছি। যদি সরকারি সহযোগিতা আসে তা হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বণ্টন করা হবে।