কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ টু কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। নান্দাইল চৌরাস্তা ধরে কিশোরগঞ্জ যেতেই রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে। টানা বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে সড়ক হয়ে উঠেছে চলাচলের অনুপযোগী। মহাসড়কে উপযুক্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্টি হয়েছে এই হাল। এসব গর্তে বিভিন্ন যানবাহনের চাকা আটকে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেক সময় মালবাহী যানবাহন গর্তে আটকে পড়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ এসব গর্তে নামেমাত্র সংস্কার চালালেও প্রতিবারই বৃষ্টির পানি জমে পণ্ড হয় তাদের শ্রম।
সরেজমিন দেখা গেছে, এ সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দূরপাল্লার শত শত যানবাহন চলাচল করে থাকে। নান্দাইল চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় আড়াইশ মিটার সড়কটির অবস্থা একেবারেই বেহাল। একে তো সড়কের দুরবস্থা তার ওপর বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে অবস্থা আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। কিন্তু তাতেও থেমে নেই সড়কে যান চলাচল। দিনের পর দিন চলাচলের অনুপযোগী এই সড়কে এভাবেই চলছে যানবাহন ও মানুষের চলাচল। প্রতি বছরই বর্ষায় বৃষ্টির পানির কারণে রাস্তার বিটুমিন নষ্ট হয়ে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। নামমাত্র ইটের টুকরো দিয়ে গর্ত ভরাট চেষ্টা চালিয়েও এর ফলে কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ ইট দিয়ে সংস্কারের পরপরই বৃষ্টির পানি পড়ে ও যানবাহনের চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে তাৎক্ষণিক গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে ইটগুলো। ফলে অকৃত্রিম চেহারায় গর্ত রয়ে যাচ্ছে আগের হালে।
এ নিয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার দুপাশে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে উঠছে।
তবে এ বিষয়ে পাল্টা অভিযোগ রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগেরও। কর্তৃপক্ষ বলছে, স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে আটকে গেছে সে উদ্যোগ। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর করা রিটে উচ্চ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় দিন গুনছেন তারা। রায় হওয়ার আগ পর্যন্ত মহাসড়কের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে কিছুই করা সম্ভব নয়। মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ভুক্তভোগী বাসচালক হায়দার আলী জানান, মহাসড়কের দুপাশে সড়ক ও জনপথের জায়গায় উঁচু করে মাটি ভরাট করে দোকানপাট তৈরি করা হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানি জমে অল্পদিনেই সড়কের এ অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই রকম ভোগান্তির শিকার সিএনজিচালক দ্বীন ইসলামও। তিনি বলেন, দিনের পর দিন গর্তের জন্য জ্যামে বসে থাকতে হচ্ছে আমাদের। মহাসড়কের এ অংশটি বারবার সংস্কার করা হয়, কিছুদিন পরই আবারও একই অবস্থায় পড়তে হয় আমাদের। এর স্থায়ী সমাধান চাই আমরা।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, ওইখানে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাতে বাধা দেয়। বিষয়টি নিয়ে তারা উচ্চ আদালতে গিয়ে রিটও করেছে। তবে সড়কের ওই অংশটুকু নতুন করে ঢালাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি।
সময়ের আলো/আরএস/