খুঁড়িয়ে চলছে বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ি

কামরুজ্জামান হারুন, চাঁদপুর

সারাদেশ

নৌযান ছাড়াই চলছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম। জনবল সংকটের পাশাপাশি ভাড়া নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কোনোরকমে খুঁড়িয়ে

2024-10-29T08:17:00+00:00
2024-10-29T08:17:00+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
খুঁড়িয়ে চলছে বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ি
কামরুজ্জামান হারুন, চাঁদপুর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৪, ৮:১৭ এএম 
খুঁড়িয়ে চলছে বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ি
নৌযান ছাড়াই চলছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম। জনবল সংকটের পাশাপাশি ভাড়া নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কোনোরকমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কাজ। বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ির কার্যালয় থাকার কথা উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বেলতলী এলাকায়। কিন্তু নিজস্ব কোনো ভবন না থাকায় ফাঁড়ির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে ষাটনল ইউনিয়নের কালীপুর বাজার থেকে। সেখানে একটি মার্কেটের দোতলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা।

এ বিষয়ে বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, স্বল্প জনবল দিয়েই নিয়মিত নদীতে টহলের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। আমাদের অভিযানের কারণেই নৌপথে অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজি কিছুটা হলেও কমেছে। এখানে নৌপথে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্পিডবোট খুবই প্রয়োজন বলেও জানান বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ওসি মো. সফিকুল ইসলাম।

চাঁদপুর নৌপুলিশের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, আবাসন সমস্যার কারণে জনবল বাড়ানো যাচ্ছে না। নৌপথে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত একটি স্পিডবোট দেওয়ার বিষয়টি সদর দফতরে জানানো হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বেলতলী বাজারে একটি ভাড়া বাড়িতে মাত্র চারজন পুলিশ সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালে বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ির যাত্রা শুরু হয়। প্রায় ছয় বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত নিজস্ব স্থায়ী কোনো ঠিকানা পায়নি ফাঁড়িটি। ফাঁড়ির কার্যক্রম চলছে একটি পুরোনো মার্কেটের দোতলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে। সেখানে নেই কোনো নিরাপত্তা। নেই আসামি রাখার হাজতখানা। ঝুঁকি নিয়েই ফাঁড়ির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন নৌপুলিশ সদস্যরা। পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম সংকটের কারণে প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারছেন না ফাঁড়ির নৌপুলিশের সদস্যরা। নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্পিডবোট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। নৌপথের বিশাল এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনবল সংকটেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে মেঘনা নদীর ষাটনল লঞ্চঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলা, গজারিয়া উপজেলা, দাউদকান্দি উপজেলার সীমানা পর্যন্ত এবং মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা নদীর শ্রীরায়ের চর হয়ে বাংলাবাজার থেকে কালীরবাজারসহ খাগুরিয়া, হাফানীয়া, বেলতলী, কালীপুর, লালপুর পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার নৌপথের বিশাল এলাকা।

বর্তমানে বেলতলী নৌপুলিশের দায়িত্বে রয়েছেন একজন পুলিশ পরিদর্শক, একজন উপপরিদর্শক, দুজন সহকারী উপপরিদর্শকসহ পাঁচজন সদস্য। এই জনবল নিয়েই নিয়মিত নৌপথে টহলের কাজ চলছে। নৌপুলিশের সরকারি কোনো স্পিডবোট না থাকায় নদীতে অপরাধ দমন বেশ চ্যালেঞ্জিং। বর্তমানে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত একটিমাত্র নৌকা নিয়ে নদীপথে টহলের কাজ চালানো হচ্ছে।

নদীপথে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে নৌপুলিশের অভিযানে গত দুই মাসে চারটি মামলা ও ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখান থেকে নিয়মিতই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাল্কহেড, কার্গো ও জাহাজ দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মালামাল সরবরাহ করে থাকেন। সাম্প্রতিক সময়ে বেলতলী অঞ্চলের মেঘনা নদীর মতলব-গজারিয়ার নৌ সীমানার তীরবর্তী অঞ্চলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বাবলা খালাসি নামে একজন নৌ ডাকাত নিহত হয়েছে।

চাঁদপুর নৌপুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এই অঞ্চলে নৌপুলিশের অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে নৌপথে চলাচলকারী নৌযান পরিচালনাকারীরা বলছেন, এখনও নানা কৌশলে নদীতে চাঁদাবাজি চলছে। রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নৌপুলিশের সীমাবদ্ধতা দূর হলে এসব সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নৌপুলিশ ফাঁড়ির স্থায়ী কার্যালয় তৈরির লক্ষ্যে বেলতলী লঞ্চঘাটের দক্ষিণ দিকে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের বাইরে বদরপুর মৌজার বিএস দাগ নং ২০৭৬ এবং ২০৭৭ দাগে ৩৩ শতক জমি কেনা হয়েছে। সেখানে নৌপুলিশের একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। তবে স্থাপনা নির্মাণের কাজ ওই সাইনবোর্ডেই থমকে আছে।

সময়ের আলো/জিকে


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: