আগাম নবান্নে চরাঞ্চলে উৎসব

পরিমল চন্দ্র, বসুনিয়া

সারাদেশ

মাঠে পাকলে আমন কৃষকের ভরে উঠে মন। এই ভরা মনের আনন্দ নিয়ে মাঠের ফসল ঘরে তোলেন তারা। এ যেন ধান

2024-11-01T01:03:10+00:00
2024-11-01T01:03:10+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
আগাম নবান্নে চরাঞ্চলে উৎসব
পরিমল চন্দ্র, বসুনিয়া
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০২৪, ১:০৩ এএম 
আগাম নবান্নে চরাঞ্চলে উৎসব
মাঠে পাকলে আমন কৃষকের ভরে উঠে মন। এই ভরা মনের আনন্দ নিয়ে মাঠের ফসল ঘরে তোলেন তারা। এ যেন ধান নয়, সোনার দানা। তাই বাড়তি আগ্রহ নিয়ে মাঠে মাঠে আমন তোলার এখন ভরা মৌসুম।

লালমনিরহাটে হাতীবান্ধায় তিস্তায় জেগে ওঠা চরে আমন কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম পড়েছে। নতুন ফসল ঘরে তুলতে উৎসবমুখর কৃষকরা। চলতি বছরে কয়েকবার আকস্মিক স্বল্প মেয়াদি বন্যায় সম্পূরক সেচ ছাড়াই আবাদ হয়েছে চরাঞ্চলের আমন।

তিস্তার চরে প্রতি বছর বন্যায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হলেও এ বছর তেমন ক্ষতি করতে পারেনি তিস্তার পানি। তবে ক্ষতি না হলেও অতিরিক্ত খরায় আমনের ফলেনে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে ধানের বর্তমান বাজার দরে সন্তুষ্ট তারা। 

চরের কৃষকরা জানিয়েছেন, চলতি বছর দোন (২৭ শতক) প্রতি ১০ থেকে ১২ মণ করে আমন ধান পেয়েছেন তারা। প্রতি মণ ধানের বাজার মূল্য ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা। ফলে ফলন কম হলেও ধানের বর্তমান বাজার দরে লাভবান হবেন তারা। এ বছর সার, কীটনাশক, ডিজেলসহ কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় আমন ধান উৎপাদনে খরচ বেশি পড়েছে। তবে বর্তমান ধানের বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় লাভের আশা করছেন কৃষক।  হাতীবান্ধার চর সির্দুনায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রচণ্ড রোদে তিস্তার চরে কৃষকরা আমন ধান কাটছেন। অনেকে কাটা ধান ঘরে তুলতে নৌকা দিয়ে পার করছেন। আবার কেউ কেউ বালু চরের মধ্যেই ধান মাড়াই করে বস্তায় ভরছেন। তবে বেশিরভাগ কৃষকের বাড়ি নদীর তীরবর্তী এলাকায় হওয়ায় নৌকা দিয়ে নদী পাড় করছেন তারা। প্রচণ্ড রোদে ক্লান্তি দূর করতে একটু বিশ্রাম নিতে গাছের ছায়ায় কিংবা ছোট টিনের চালার ঝুপড়ি ঘরে বসে জিরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। চরে আমন ধান কাটা মানেই যেন কৃষকদের মনে উৎসবের আমেজ।  

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, উপজেলার তিস্তার চরে চলতি আমন মৌসুমে ২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন কৃষকরা। বর্তমানে চরে আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে তারা। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চরে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। যদিও এবার খরায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে স্থানীয় ধানের বাজার মূল্য বেশি থাকায় চরের কৃষকরা লাভবান হবেন। 

তিস্তার চরের কৃষক সামছুল ইসলাম বলেন, গত বছর কষ্টে রোপা আমন ধান তিস্তা নদীর বন্যায় তলিয়ে যায়। দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকায় ধান গাছে পচন ধরে। চলতি বছর তিস্তায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হওয়ায় ধান ভালো হয়েছে। এবার লাভবান হব। 

কৃষক করিম উদ্দিন বলেন, এ বছর খরার কারণে আগের তুলনায় ধান কম হয়েছে। তারপরও বিঘাপ্রতি ১০-১২ মণ করে ধান হবে। তা ছাড়া এখন বাজারে ধানের দাম বেশি। এবার লোকসান হওয়ার শঙ্কা নেই।
হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন মিয়া বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চরাঞ্চলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের বর্তমান বাজার মূল্য ভালো। কৃষকরা এবার মোটামুটি লাভবান হবেন। চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলে ২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এ ছাড়াও আমন তোলার পর ভুট্টা, গম, আলু, শাকসবজি ইত্যাদি চাষের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন চরের কৃষকরা। কৃষি অফিস থেকে সবধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে তাদের। 

সময়ের আলো/আরএস/




Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: