নির্দেশ না মেনে আবাসিক ভবনে হাসপাতাল নির্মাণ

রুবেল মজুমদার, কুমিল্লা

সারাদেশ

কুমিল্লা নগরীতে আবাসিক ভবনে হাসপাতাল না খোলার নির্দেশ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। নিয়মনীতির কোনো রকম তোয়াক্কাই করছে না হাসপাতাল

2024-11-04T04:18:32+00:00
2024-11-04T04:18:32+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
  স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকার মানুষ 
নির্দেশ না মেনে আবাসিক ভবনে হাসপাতাল নির্মাণ
রুবেল মজুমদার, কুমিল্লা
প্রকাশ: সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৪, ৪:১৮ এএম 
নির্দেশ না মেনে আবাসিক ভবনে হাসপাতাল নির্মাণ
কুমিল্লা নগরীতে আবাসিক ভবনে হাসপাতাল না খোলার নির্দেশ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। নিয়মনীতির কোনো রকম তোয়াক্কাই করছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রতিনিয়তই আবাসিক ভবনে খোলা হচ্ছে নামে বেনামে নানা হাসপাতাল। সেসব হাসপাতালে রোগী দেখার পাশাপাশি রোগীর অস্ত্রোপচারও করছেন চিকিৎসকরা। রয়েছে রোগীর শয্যার ব্যবস্থাও। প্রশাসনের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়মনীতি না মেনে চলছে এসব হাসপাতালের কার্যক্রম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ড দেখেও যেন না দেখার ভান করে রয়েছে প্রশাসন। সেগুলো বন্ধের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি আবারও কুমিল্লা নগরীতে আবাসিক ভবনে হাসপাতাল খোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগ ঠাকুরপাড়া এলাকার সালাউদ্দিন মোড় সংলগ্ন তাকওয়া হাসপাতালের বিরুদ্ধে। 

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়সার বলেন, কোনোভাবেই আবাসিক ভবনে হাসপাতাল চালু করতে দেওয়া যাবে না। আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়ে থাকলে আমরা এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছামছুল আলম বলেন, শহরে ৫ হাজার বিল্ডিং রয়েছে। আমি কী করে জানব কোনটা আবাসিক, কোনটা বাণিজ্যিক! সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বসে নেই। তাকওয়া হাসপাতাল উল্লেখ করে সালিশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন রেখে দেন। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। 

জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাছিমা আকতার বলেন, জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল আবাসিক ভবনে কোনো হাসপাতাল চালু করা যাবে না। কিন্তু বাংলাদেশের আর কোথাও এমন নিয়ম নেই। জেলা প্রশাসনের হাতে এটা। আমরা তাকওয়া হাসপাতালকে গত বছর এই আইনে নিষেধ করেছিলাম হাসপাতাল চালু করতে। তারা যদি পুনরায় চালু করে থাকে তা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাকওয়া হাসপাতালের ভবনটি আবাসিক ভবন হলেও নিয়মনীতি না মেনে এক প্রকার জোর করেই হাসপাতাল খুলে বসেছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে হাসপাতাল সিভিল সার্জন কার্যালয়, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্দেশ অমান্য করার পরও কোনো এক অজানা কারণে নীরব রয়েছে প্রশাসন। তাকওয়া হাসপাতাল ভবনের পাশেই লাগোয়া আরেকটি আবাসিক ভবনের বাসিন্দারা তাদের জীবন নিয়ে রীতিমতো হুমকিতে পড়ে গেছেন। তারা আশঙ্কা করছেন নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার। ঠাকুরপাড়া এলাকার সালাউদ্দিন মোড় সংলগ্ন তাকওয়া হাসপাতালের ভবনসহ পাশের আরেকটি ভবন সিটি করপোরেশন কর্তৃক দেওয়া একই হোল্ডিং নম্বরের অন্তর্ভুক্ত। ওই হোল্ডিংয়ের অধীনে ভবনগুলো আবাসিক ভবন হিসেবে সিটি করপোরেশনে তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও ওই হোল্ডিংয়ের দক্ষিণ দিকের ভবনে তাকওয়া হাসপাতাল তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। আবাসিক ভবন হওয়ায় সব দিক বিবেচনায় এটি হাসপাতাল পরিচালনায় উপযুক্ত নয় এবং একই প্রাঙ্গণে ঠিক পাশের ভবনে বসবাসকারীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকিরও কারণ। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকওয়া হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. ইমদাদুল হক বলেন, আমরা এই বাড়ি ভাড়া নিয়েছি। আমাদের স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে নেওয়া লাইসেন্স রয়েছে। এ ছাড়া একটি হাসপাতাল পরিচালনা করতে যত ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন হয় তার সবই রয়েছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হাসপাতাল পরিচালনা করছি। আর কুমিল্লা শহরের অধিকাংশ হাসপাতালই আবাসিক ভবনে করা। 

তাকওয়া হাসপাতাল যে বাড়িতে খোলা হয়েছে সেই বাড়ির অংশীদার ও ভুক্তভোগী লায়লা সুলতানা বলেন, আমাদের বাড়িটি আবাসিক ভবন হওয়া সত্ত্বেও এখানে হাসপাতাল কীভাবে চালু করতে পারে তারা! আমি এই বিষয়ে সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও সিটি করপোরেশনে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাইনি। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছামছুল আলম বিষয়টি নিয়ে সালিশ করেছেন আমাদের দুই পক্ষকে নিয়ে। সালিশে আমরা আমাদের পক্ষে রায় পেলেও তিনি আমাদের কোনো লিখিত দেননি। পরে আমরা লিখিত চাইলে তিনি আমাদের তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। আমরা আমাদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা চাই। এ অবস্থায় আবাসিক ভবনে এবং সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত পরিবেশে চালু হওয়া তাকওয়া হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করাসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ করছি প্রশাসনকে।

সময়ের আলো/আরএস/


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: